kalerkantho


আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সিইসি

কুমিল্লার ভোটে আস্থার নজির সৃষ্টি করতে হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার ভোটে আস্থার নজির সৃষ্টি করতে হবে

‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনের নজির হিসেবে দেখতে চাই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ যত ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন দেওয়া হবে। ’ গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

এদিকে বৈঠক উপস্থিত সূত্র এ তথ্যসহ আরো জানায়,  কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি।

বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন, গাইবান্ধা-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেন। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গাইবান্ধা-১ আসনে ২২ মার্চ এবং সুনামগঞ্জ-২ উপনির্বাচন ও কুমিল্লা সিটিতে ৩০ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে।

গতকালের এই বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের প্রতিনিধি, মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়/জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, সুনামগঞ্জের অবস্থা ভালো। গাইবান্ধায় স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিদের তত্পরতা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে। কুমিল্লায় প্রার্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্ক রয়েছে। রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। গাইবান্ধায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাতে হবে। কুমিল্লায় খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়। বলা হয়, প্রার্থীদের আচরণবিধি পালনে বাধ্য করানো গেলে নির্বাচনের পরিবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে  রাখা  সম্ভব হবে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, উপনির্বাচন দুটির তুলনায় কুমিল্লায় হাই ভোল্টেজ নির্বাচন হবে।

সিইসির ব্রিফিং : বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশনের ওপর যেন আস্থার একটা ক্ষেত্র তৈরি হয় তা এই নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসবে। তিনি জানান, দেশে একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে তিন শ আসনের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়ার নজির রয়েছে। তাই মাত্র দুই-তিনটি নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই।

সিইসি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অনিয়মে জড়ালে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় জঙ্গি বা নাশকতার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেশি সতর্ক থাকব। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর থাকবে।


মন্তব্য