kalerkantho


দায়সারা অভিযানে চট্টগ্রামে কাটছে না জঙ্গি হামলার শঙ্কা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দায়সারা অভিযানে চট্টগ্রামে কাটছে না জঙ্গি হামলার শঙ্কা

জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়সারা অভিযানে চট্টগ্রামে কাটছে না শঙ্কা। ঘটনাকেন্দ্রিক অভিযান ও তত্পরতায় কিছুসংখ্যক জঙ্গি গ্রেপ্তার সম্ভব হলেও বড় অংশ ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে সমন্বিত ও ধারাবাহিক জঙ্গিবিরোধী তত্পরতার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জঙ্গি দমন প্রসঙ্গে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ধারাবাহিক অভিযান হচ্ছে না, এটা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ জঙ্গিরা ধরা না পড়লে অনেক সময় সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তখন অভিযান চালানো মুশকিল। র‌্যাব-৭ সফলভাবে জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড দমন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন চট্টগ্রামভিত্তিক এই জঙ্গি সংগঠনের কোনো তত্পরতাই লক্ষ করা যাচ্ছে না। জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সব ইউনিটের সমন্বয় দরকার। চট্টগ্রাম অঞ্চলে জঙ্গি তত্রপতার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। ’

পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, চট্টগ্রামভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেড দমনে সফলতা থাকলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবিসহ অন্য সংগঠনগুলোর তত্পরতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রামে বেশির ভাগ জঙ্গিই গ্রেপ্তার হয়েছে ঘটনাক্রমে। ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ তর্কের জেরে আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এরশাদ হোসেন মামুন নামের যুবককে। জিজ্ঞাসাবাদে তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। তার মাধ্যমে পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানতে পারে ফারদিন, জাবেদসহ বিভিন্ন নামে সক্রিয় জঙ্গিদের তথ্য। জেএমবির বেশ কিছু আস্তানার ব্যাপারেও মামুন তথ্য প্রকাশ করে। তারপর  দীর্ঘ সময়ে জঙ্গিবিরোধী জোরালো কোনো অভিযান হয়নি। এরই মাঝে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট এলাকায় ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর একটি ঘটনায় ছিনতাইকারী ও ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্ণফুলী থানার একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র ও গ্রেনেড উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে তারা সবাই জেএমবির সদস্য। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জেএমবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার জাবেদ গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যায়। জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ল্যাংটা ফকির হত্যাকাণ্ডে ছিল জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে মেলে জঙ্গি আস্তানার তথ্য। হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গ্রেনেড ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এটি জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার ফারদিন ওরফে নোমানের আস্তানা বলে চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়া ফারদিন অবশেষে শেরপুরে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে মারা যায়।

২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটির (ঈশা খাঁ) মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সে মামলায় আবদুল মান্নান ও রমজান আলী নামে দুজন আসামি গ্রেপ্তারের পর জেলে আছে। এ বোমা হামলার নির্দেশক হিসেবে ফারদিনের নাম এসেছিল।

গত বছরের জুলাই মাসে সীতাকুণ্ড থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মুছা ইবনে ওমায়েরসহ পাঁচজনকে। তারা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে জানায়। এসব গ্রেপ্তারের পর জঙ্গি দমনে তোড়জোড় হলেও পরে থেমে যায়। সর্বশেষ মিরসরাইয়ে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলায় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তত্পরতা বেড়েছে। তা সহসাই থেমে যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ সতর্ক ছিল বলেই ইসলামী সমাজ নাম দিয়ে নাশকতার বৈঠককালে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গিদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবলম্বন করা হয়। ’


মন্তব্য