kalerkantho


মিরপুরে সরকারি জমিতে রেস্টুরেন্ট!

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিরপুরে সরকারি জমিতে রেস্টুরেন্ট!

মিরপুরের কালশী রোডে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা দি নিউ ইয়র্ক রেস্টুরেন্ট। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুরে কালশী এলাকার ডিওএইচএস রোডের পাশে সরকারি জমি দখল করে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

মাস ছয়েক আগে সেখানে রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করা হয়। এনএইচএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভবনটি ইতিমধ্যে ‘লাল দাগ’ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভেঙে ফেলতে সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কোর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি সমিতি রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করে। তাদের দাবি, পুরো রেস্টুরেন্ট নয়, ভবনের সম্মুখভাগের কিছুটা অংশ সরকারি জমিতে পড়েছে। ওই জমি বরাদ্দ পেতে এনএইচএর কাছে তারা আবেদনও করেছে।

এনএইচএ সূত্রে জানা যায়, স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনের বাউনিয়া মৌজায় প্রায় ১৫ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আড়াই হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের অধীনে ১৯৭৩ সালে প্রায় ১৪৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

অধিগ্রহণ করা সরকারি জমিতে দীর্ঘ সময় নজরদারি না থাকায় দখলদাররা থাবা বসিয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার আইনি সুযোগ নেই। সম্প্রতি এনএইচএ কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও করেছে। উচ্ছেদকালেই ‘দ্য নিউ ইয়র্ক রেস্টুরেন্ট’ নামের ওই অবৈধ স্থাপনাটি চিহ্নিত করা হয়। স্থাপনাটি আকারে বড় হওয়ায় তাত্ক্ষণিক লাল দাগ দিয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে সেটি অপসারণের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এখনো তা সরিয়ে নেয়নি।

এনএইচএর (ঢাকা ডিভিশন-২) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ সোহেল রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের জমিতে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করেছে একটি মহল। সেটি চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের জন্য বলেছি। তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে উচ্ছেদ অভিযান চালাব। ’

উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা পেতে তড়িঘড়ি করে এনএইচএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। কোর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কামরুল আহসান গত ২ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি করেন। তাতে বলা হয়, ‘১২৪ জন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের নিয়ে এ সমিতি পরিচালিত হচ্ছে। সমিতির সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের জমি সরকারের অধিগ্রহণকৃত ভূমির পেছনে হওয়ায় বর্তমানে এনএইচএর জমি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাই বাউনিয়া মৌজার ৩২৪৩২ ও ৩২৫৩ দাগে ডিওএইচএস রাস্তার উত্তর পাশে ১৬৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪০ ফুট প্রস্ত জমি বরাদ্দের প্রয়োজন। ’

রেস্টুরেন্টটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান সুজন গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, ‘আমরা ১২৪ সদস্য মিলে রেস্টুরেন্ট চালু করেছি। গত রমজানের পর আমাদের নিজস্ব জমিতে থাকা ভবনটি রেস্টুরেন্ট হিসেবে সাজিয়েছি। কিন্তু সামনের অংশটি এখন সরকারি বলে শোনা যাচ্ছে। আমরা তা বরাদ্দ পেতে আবেদন করেছি। চেষ্টা করে দেখব, না পেলে স্থাপনা সরিয়ে নেব। ’

সমিতির সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখনো নিশ্চিত নই যে রেস্টুরেন্টের কতটুকু জমি সরকারি। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে আমরা বলেছি, সঠিকভাবে একটি সার্ভে করার জন্য, এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। ’

এনএইচএর চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৪৮ একর জমি নিয়ে বাউনিয়া এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। সেখানে কোনো হোটেল-রেস্তোরাঁ করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের আবেদন বিধি মোতাবেক খারিজ করে দিয়ে জমি দখলমুক্ত করা হবে। ’


মন্তব্য