kalerkantho


জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন শুরু কাল

‘মৃত্যুরে করিবে তুচ্ছ প্রাণের উৎসাহ’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন। শাহবাগে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে আজ প্রাক-সম্মেলন পর্ব শুরু হবে।

আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে সম্মেলনের মূল পর্ব। চলবে রবিবার পর্যন্ত। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী।  

গতকাল ধানমণ্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা। তিনি জানান, সারা দেশ থেকে মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রায় পাঁচ শ প্রতিযোগী এখন ঢাকায়। আজ সারা দিন ধরে চলবে বাছাই পর্ব।

শুক্রবার থেকে তিন দিনের এ সম্মিলনে থাকবে রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান, গান, গুণীজন সম্মাননা, রবিরশ্মি, আবৃত্তি ও নাচ। অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শনিবার বিকেলে সেমিনারে ‘সভ্যতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ’ বিষয়ে প্রবন্ধ পড়বেন ভূঁইয়া ইকবাল। সংগঠনের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা করবেন সারোয়ার আলী এবং মফিদুল হক।

তৃতীয় দিন রবিবার সকালে শহীদ মিনারে দেওয়া হবে শ্রদ্ধাঞ্জলি। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ ছাড়া সম্মেলনের তিন সন্ধ্যায় সম্মেলক গান পরিবেশন করবে সংগঠনটির সিলেট, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুরের শিল্পীরা।

এ বছর গুণীজন সম্মাননা ও রবীন্দ্রপদক দেওয়া হবে তবলাশিল্পী মদন গোপাল দাস এবং পটশিল্পী শম্ভু আচার্যকে। সম্মেলনে সারা দেশের বায়ান্নটি শাখা থেকে বাছাই করা প্রায় ১৮০ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন।

সংগঠনের সহসভাপতি আ ব ম নুরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মইনুদ্দিন নাজির, বুলবুল ইসলাম, মিতা হক ও কোষাধ্যক্ষ লিলি ইসলাম।

সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ১০ লেখক : কবি, সাহিত্যিক, লেখক, প্রকাশক আর বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে গতকাল তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই ভবনে আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১০ লেখকের হাতে তুলে দেওয়া হলো ‘সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭’। সদ্য শেষ হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত সেরা বইয়ের জন্য দেওয়া হয় এই পুরস্কার। নবমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হয় দুটি শাখায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং সিটি ব্যাংক এনএর কান্ট্রি ট্রেজারার ও মার্কেট চিফ সাজেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শুরুর আগে পুরস্কারে প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কথাশিল্পী আনোয়ার সৈয়দ হক, অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক, কথা প্রকাশের সত্বাধিকারী জসিম আহমেদ প্রমুখ।

এবার ‘ক’ শাখায় প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা বিভাগে অনন্যা থেকে প্রকাশিত ‘উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গে ব্রাহ্ম আন্দোলন’ গ্রন্থের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কবিতায় যৌথভাবে আবিষ্কার থেকে প্রকাশিত ‘জো’ কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও জার্নিম্যান থেকে প্রকাশিত ‘সাত দেশের কবিতা’ অনুবাদ কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি মুহাম্মদ সামাদ, শিশুসাহিত্যে (যৌথভাবে) কিশোর উপন্যাসে ‘হাশেম খানের ছবির গল্প মধুবক’ গ্রন্থের জন্য হাশেম খান ও ছড়ায় চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘লাল জেব্রার ম্যাজিক’ ছড়াগ্রন্থের জন্য ছড়াকার লুত্ফর রহমান রিটন, উপন্যাসে যৌথভাবে প্রথমা থেকে প্রকাশিত ‘প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে’ গ্রন্থের জন্য কথাশিল্পী আনিসুল হক ও কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘ডুগডুগির আসর’ গ্রন্থের জন্য কথাশিল্পী প্রশান্ত মৃধাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তরুণ লেখক ক্যাটাগরিতে (জীবনের প্রথম বই) সময় থেকে প্রকাশিত ‘প্রকাশকনামা ও হুমায়ূন আহমেদ’ গ্রন্থের জন্য ফরিদ আহমেদ, কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘মেঘ ও বাবার কিছু কথা’ গ্রন্থের জন্য দ্বিতীয় সৈয়দ হক ও অনন্যা থেকে প্রকাশিত ‘নীল ফড়িং কাব্যগ্রন্থের’ জন্য শানারেই দেবী শানু পুরস্কৃত হয়েছেন। ‘ক’ শাখায় প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান ৩০ হাজার টাকা ও একটি ক্রেস্ট, আর ‘খ’ শাখায় পুরস্কারের মূল্যমান ১০ হাজার টাকা ও একটি ক্রেস্ট।


মন্তব্য