kalerkantho


বৈশ্বিক শিক্ষা পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন

শিক্ষায় এসডিজি অর্জনে বাধা অর্থায়নের অপ্রতুলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষা খাতে এসডিজি অর্জনে বড় প্রতিবন্ধকতা অর্থায়নের অপ্রতুলতা। শিক্ষায় বৈশ্বিক পর্যায়ে সহায়তা দিন দিন কমছে। এ ক্ষেত্রে ধনী দেশগুলো ২০০৯ সালে যে পরিমাণ সহায়তা দিয়েছিল এর পরের বছর থেকে দিন দিন তা কমছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোর শিশুদের শিক্ষার জন্য ধনী দেশগুলোর জনগণ বছরে মাথাপিছু মাত্র পাঁঁচ ডলার সহায়তা দেয়, যা দুঃখজনকভাবে কম।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন ব্যানবেইস ভবন মিলনায়তনে বৈশ্বিক শিক্ষা পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন-২০১৬ প্রকাশ করে। সেখানে এসব কথা বলা হয়েছে। যদিও ইউনেসকো গত বছরের শেষ দিকে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল। এবার বাংলাদেশে সেটা বাংলায় প্রকাশ করা হলো।

প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনেসকো কমিশনের সচিব মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ প্রমুখ। পরে এই প্রতিবেদন নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদশালী কয়েকটি দেশ যদি তাদের মোট জাতীয় আয়ের ০.৭ শতাংশ সহায়তা দেয় এবং সে সহায়তার ১০ শতাংশ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করে, তাহলে এসডিজি-৪ বাস্তবায়নের আর্থিক ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

আর শিক্ষায় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটাতে হলে মোট জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৪ থেকে ৬ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে।

ড. মনজুর আহমেদ বলেন, ‘প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সমস্ত কাজ একটি মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত। পৃথিবীর সব দেশেই একই ব্যবস্থা। অথচ আমাদের দেশে তা নেই। ফলে আমাদের লক্ষ্য অর্জনে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমাদেরকে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত সর্বজনীন করতে হবে। ঝরে পড়া কমাতে হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। ’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে ইতিমধ্যে আমাদের কর্মকৌশল তৈরির কাজ চলছে। এসডিজির যে লক্ষ্যগুলো বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে এখনো পঞ্চম শ্রেণি শেষ করেও ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি তো দূরের কথা বাংলাটাই ঠিকমতো পড়তে পারে না। শিক্ষার মানের দিকে আমাদের জোর দিতে হবে। শিক্ষকদের আরো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। ’


মন্তব্য