kalerkantho


চন্দনাইশে টেন্ডার বক্স ছিনতাই

ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সাতকানিয়া প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভা কার্যালয় থেকে দরপত্রসহ টেন্ডার বক্স ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে বাক্সটি ভেঙে দরপত্রগুলো নিয়ে চলে যায় তারা। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চন্দনাইশ পৌরসভার হাটবাজার পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী ও পুলিশ জানায়, গতকাল পৌরসভার আওতাধীন খান হাট, বাগিচা হাট, নয়া হাট, চন্দনাইশ থানা বাজার, খান হাট দৈনিক ও কোরবানির দিন সকালের বাজার এবং খান হাট কসাইখানা ইজারা প্রদানের দরপত্র জমাদানের নির্ধারিত দিন ছিল। গত মঙ্গলবার দরপত্র ক্রয়ের শেষ দিন পর্যন্ত পাঁচটি হাটবাজারের ৭০টি ও একটি কসাইখানার চারটি দরপত্র বিক্রি হয়।

ঘটনার দিন সকালে কয়েকজন আগ্রহী ইজারাদার পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে তাঁদের দরপত্র নির্ধারিত বাক্সে জমা দেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে দরপত্র জমা দেওয়া না দেওয়ার বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে বাগিবতণ্ডতায় লিপ্ত হয়। পরে তারা দরপত্রসহ বাক্সটি ছিনিয়ে নিয়ে পৌর ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর নিচে থাকা তাদের লোকজন টেন্ডার বক্সটি কিছু দূর নিয়ে গিয়ে ভেঙে দরপত্রগুলো ছিনিয়ে বাক্সটি ফেলে চলে যায়। পরে আগ্রহী আরো কয়েকজন ইজারাদার দরপত্র জমা দিতে এসে ফিরে যান।

ঘটনার পরপরই চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মাহাবুবুল আলম খোকা গতকালের টেন্ডার বাতিল করে আগামী ১৫ মার্চ পুনঃ দরপত্র জমার দিন ঘোষণা করেন। দরপত্র জমা দিতে আসা ঠিকাদারদের পরবর্তী তারিখে দরপত্র জমা প্রদানের জন্য বলা হয়।

চন্দনাইশ পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, ‘চন্দনাইশের কোনো ছাত্রলীগ নেতা ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত নেই। হাটবাজার ও কসাইখানা ইজারার দরপত্রও নেয়নি। টেন্ডার বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী সম্পৃক্ত নেই। দরপত্র ক্রয়কৃত আগ্রহী ইজারাদারদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে শুনেছি। ’

দরপত্র জমা দেওয়া চন্দনাইশের হারালার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি থানা হাট ইজারার দরপত্র জমা দিয়েছিলাম। ছিনিয়ে নেওয়া দরপত্রের সঙ্গে আমার পে-অর্ডার রয়েছে। দরপত্র জমা দিয়ে এখন উল্টো বিপদে পড়ে গেলাম। ’ একই অভিযোগ চন্দনাইশের হাজীপাড়ার আবদুল আজিজ এবং মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর। তাঁরাও পে-অর্ডারসহ দরপত্র জমা দিয়েছেন। দরপত্র জমা দেওয়া অন্য একজন জানিয়েছেন, পে-অর্ডারসহ দরপত্র ছিনতাইয়ের বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অবগত করেছেন।

পৌর মেয়র মাহাবুবুল আলম খোকা বলেন, ‘আমি পৌরসভা কার্যালয়ে বসা ছিলাম। ওই সময় উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মী এসে চিত্কার-চেঁচামেচি করতে করতে দরপত্রের বাক্সটি ছিনিয়ে নিয়ে নিচে ফেলে দেয়। পরে বাক্স ভেঙে দরপত্রগুলো ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আমি টেন্ডার বাতিল করে দিয়েছি। আগামী ১৫ তারিখে পুনরায় দরপত্র জমা নেওয়া হবে। ঘটনার বিষয়ে চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ’

চন্দনাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙা অবস্থায় বাক্সটি উদ্ধার করে। তবে এর আগে বাক্সে থাকা দরপত্রগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য