kalerkantho


বিএনপির বিকল্প জোট গঠনে তৎপর এরশাদ

মোশতাক আহমদ   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপির বিকল্প একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যদিও গত মঙ্গলবার ১৫টি নামসর্বস্ব দলের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি তিনি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন কয়েকটি ইসলামী দলকেও এ জোটে টানার টার্গেটে কাজ শুরু করেছেন এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর জাপা দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি এ বিষয়ে জানান, এরশাদের নেতৃত্বে নতুন জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, উদার গণতান্ত্রিক, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক দল এতে থাকবে।

দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় জানান, এরশাদের নির্দেশে তিনি এরই মধ্যে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসা আব্দুল লতিফ নেজামীর ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বৈঠক হয়েছে ইসলামিক ফ্রন্টের সঙ্গেও। এ ছাড়া অন্যান্য দল তো আছেই।

এরশাদ এখনো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূতের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। সরকারে জাতীয় পার্টির তিনজন মন্ত্রীও আছেন।

এর পরও নতুন জোট গঠন নিয়ে এত তত্পরতা কেন—জানতে চাইলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি, হয়তো আগামীতেও থাকব। তবে আগামীতে যেটা প্রয়োজন, তা হলো বিএনপি জোটের বিকল্প একটি জোট গঠন। সে লক্ষ্যেই হয়তো পার্টির চেয়ারম্যান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। ’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, এরশাদ এর আগেও জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারও যে একই ঘটনা ঘটবে না—তা কে বলতে পারে।

এমনই সুর পাওয়া গেল ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব আব্দুল্লাহ ওয়াসেলের বক্তব্যে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে এরশাদের কথা হয়েছে। তবে নতুন কোনো জোট নিয়ে নয়, কথা হয়েছে চলমান মূর্তি অপসারণ আন্দোলন বিষয়ে। আর নতুন জোটে যাব কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। ’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘দেশ ও জনগণের কল্যাণে এরশাদের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সে জন্য আমরা চাচ্ছি একটি জোট গঠন করতে। ’ কবে নাগাদ তা হতে পারে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী অনেক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এর পরই ঠিক হবে জোটের রূপরেখা কী হবে।

জানতে চাইলে এরশাদের ছোট ভাই ও দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘পার্টি চেয়ারম্যান এরই মধ্যে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন করা। ’ সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘২০ থেকে ২৫টি দল নিয়ে আমাদের জোট হতে পারে। এরই মধ্যে ১৫টি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে কথা চলছে। আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। ’

গত মঙ্গলবার এরশাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, আমজনতা পার্টির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বেনজীর আহম্মেদ, গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হোসেন, আওয়ামী পার্টির চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা সরকার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন পার্টির চেয়ারম্যান এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ডা. সেলিম রেজা, কৃষক শ্রমিক পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন সালাম মাহমুদ, ইউনাইটেড মুসলিম লীগ পার্টির ড. মো. নিছার উদ্দিন, গণ-অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান হোসেন মোল্লা, তফসিল ফেডারেশনের চেয়ারম্যান দুলাল সাহা প্রমুখ।

বৈঠকে দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও জোট গঠন বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এরশাদ। জানতে চাইলে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতাদের মতামত হলো, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের ডেকেছেন। আমরা গিয়েছি। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে জোট হবে কি হবে না। ’ কৃষক শ্রমিক পার্টির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা বৈঠকে অংশ নিয়েছি। দেখা যাক কী হয়। ’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত হলো, এরশাদ সত্যিই যদি বিএনপির বিকল্প জোট করতে চান তাহলে তাঁকে আগে আওয়ামী লীগ জোট ছাড়তে হবে। তা না হলে কেউ তাঁর প্রতি বিশ্বাস বা আস্থা আনতে পারবেন না। তাই দোটানায় পড়ে এরশাদ আগামীতে জোট গঠনে কতটা সফল হন সেটা দেখতে আরো সময় দরকার।


মন্তব্য