kalerkantho


কর্মশালায় তারানা হালিম

সাইবার অপরাধের শিকার ৭৩% নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি জানান, ৪৯ শতাংশ স্কুল শিক্ষার্থী সাইবার হুমকির শিকার। তবে ২৩ শতাংশই অভিযোগ করে না।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ : সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) উদ্যোগে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির সহায়তায় এ কর্মশালা হয়। সমাপনী পর্বে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় শতাধিক ছাত্রছাত্রী এ কর্মশালায় অংশ নেয়।  

তারানা হালিম ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় অজানা কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সমস্যা হলে তা অভিভাবকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিছু পোস্ট করাই স্মার্টনেস নয়, স্মার্টনেস হচ্ছে নিজেকে নিরাপদ রাখা। সাইবার ক্রাইমের ক্ষেত্রে বিষয়টি দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিটিআরসিকে জানাতে হবে। আপত্তিকর, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কনটেন্টগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। অভিভাবকদেরও ইন্টারনেট বিষয়ে মৌলিক ধারণা থাকতে হবে।

 

তারানা হালিম আরো বলেন, ইন্টারনেটের দুটি দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে গঠনমূলক ও অন্যটি ধ্বংসাত্মক। ইন্টারনেটের গঠনমূলক দিক ছাত্রছাত্রীদের সমৃদ্ধ করবে। জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য অবশ্যই ইন্টারনেটের ব্যবহার প্রয়োজন। ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকার দেশের প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। একই সঙ্গে দেশ ও সমাজকে নিরাপদ রাখার দায়িত্বও সবার। সর্বশেষ সেশনে  সিটিওর  মহাসচিব শোলা টেইলর, সিটিওর সাপোর্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি ডিভিশনের প্রধান ড. মার্টিন কোয়েব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছাত্রছাত্রীদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। এ কর্মশালায় ইন্টারনেট সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের ভূমিকা ও বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম চর্চা, সাইবার অপরাধ তদন্ত ও বিচার : স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত, ওভার দ্য টপ (ওটিটি) সেবার সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা, সাইবার অপরাধ দমনে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভূমিকা, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে টেলিযোগাযোগ খাতের গৃহীত কৌশলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হয়।


মন্তব্য