kalerkantho


বিমানবন্দর এলাকা

‘পাতি নেতা’ নান্নুর দখল চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘পাতি নেতা’ নান্নুর দখল চাঁদাবাজি

নান্নু

বিমানবন্দর থানা এলাকায় চিহ্নিত এক পাতি নেতার উত্পাতে খুদে ব্যবসায়ী, হকার ও দোকানদার থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন পর্যন্ত অতিষ্ঠ। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে তিনি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক টাউটকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় নানামুখী অপকর্ম করে যাচ্ছেন। শেখ ফজলুল হক নান্নু নামের এই পাতি নেতা এতটাই বেপরোয়া যে জোরপূর্বক একটি মাদরাসা দখল করে নিয়েছেন। এলাকাছাড়া করেছেন এর মোতোয়ালিকে। ভুক্তভোগী একাধিক সূত্রে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দর গোলচত্বরে ওয়াক্ফ সম্পত্তিতে ‘বাবুস সালাম’ মসজিদ ও মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন মোতোয়ালি মোশতাক আহমেদ। পাতি নেতা শেখ ফজলুল হক নান্নু গায়ের জোরে মাদরাসাটি দখল করে মোতোয়ালিকে এলাকাছাড়া করেছেন। এর পর থেকে নান্নু ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গর হুমকি-ধমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই মোতোয়ালি। এই অবস্থায় প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, নান্নুর নেতৃত্বে দখলবাজচক্র এখন মাদরাসা কমপ্লেক্সের দোকানপাট দখলের পাঁয়তারা করছে।

স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, শেখ ফজলুল হক নান্নু ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়ে সরকারি জমি দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছেন।

অথচ তিনি বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের কোনো অঙ্গসংগঠনেও নেই। একসময় তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোর্টার (কুলি) ছিলেন। পরবর্তী সময়ে গাড়িচালকের কাজ করেন। মূলত তখন থেকেই তিনি বিমানবন্দর শ্রমিক লীগের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন। এ কারণে তাঁকে শ্রমিক লীগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর তিনি ঢাকা বিভাগীয় শ্রমিক লীগের সাইনবোর্ডে চাঁদাবাজি করতে থাকলে সেখান থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিট পুলিশের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ বিমানবন্দর থানার পুলিশ থেকে জানানো হয়, তাদের এ ধরনের কোনো কমিটিই নেই।

বিমানবন্দর থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি ইমান আলী মৃধা বলেন, ‘শেখ নান্নু আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গসংগঠনের কিছু না হয়েও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপরাধ করে যাচ্ছেন। তিনি ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানপাট থেকে নানা কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তিনি আমাকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে বাধ্য হয়েছি। ’

বাবুস সালাম মসজিদের মুসল্লি ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ধারী নান্নু একজন ভয়ংকর ব্যক্তি। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি রেস্তোরাঁ ভাড়া নিয়ে সেখানে আবাসিক হোটেল খুলে বসেছেন। মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সে আবাসিক হোটেল চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এ হোটেল চালাতে স্থানীয় মুসল্লিরা একাধিকবার তাঁকে নিষেধ করলেও তা তিনি শোনেননি। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে তিনি কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না। ’

স্থানীয় শ্রমিক লীগের একাধিক কর্মী জানায়, এই পাতি নেতা একজন মার্কামারা মদ্যপ। রাতের বেলায় মদ খেয়ে নানাজনের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা তাঁর প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। বিমানবন্দর রেলস্টেশনের কুলি সরদার আমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে পাতি নেতা শেখ নান্নু, রোকন মোল্লাসহ কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। নান্নু আমার ওপর মদ ঢেলে দেয়। তখন আমি থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। মামলাটি বিচারাধীন। আমার ওপর হামলা ছাড়াও নান্নু আওয়ামী লীগের নাম বিক্রি করে বিমানবন্দর এলাকায় দলবল নিয়ে নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। ’

গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে নান্নু কয়েকজন সন্ত্রাসীসহ স্থানীয় ছাত্রলীগের কতিপয় নেতার ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রলীগের তিন নেতা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার নান্নুসহ তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়। বিমানবন্দর থানা সূত্র জানায়, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী নান্নুকে খোঁজা হচ্ছে। যেকোনো সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মদ খেয়ে অশোভন আচরণ ও চাঁদাবাজির কারণে নান্নু এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এমনকি শিশুপাচারের অভিযোগে দক্ষিণখান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।

ফজলুল হক নান্নু অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। ’


মন্তব্য