kalerkantho


রাজশাহীতে এবার আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহীতে এবার আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ

রাজশাহীতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা গত পাঁচ বছরে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে অর্থনীতির চাকা যেমন আরো গতিশীল হয়েছে তেমনি বেড়েছে কর্মসংস্থান।

চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে গাছে গাছে আমের গুটি দানা বেঁধেছে। চাষিরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। বৈশাখের শুরুতে বাজারে পাওয়া যাবে আম।

রাজশাহী ফল গবেষণাগার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৯৬১ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রাজশাহী অঞ্চলে সর্বোচ্চ আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা। আগের বছর রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এবার গতবারের চেয়ে আম বেশি উত্পাদন হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। কারণ গতবারের চেয়ে এবার বেড়েছে লক্ষ্যমাত্রা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম কালের কণ্ঠকে জানান, হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন হারে আম উত্পাদন হবে বলেও এবার আশা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে এবার আমের উত্পাদন গতবারের চেয়ে অনেক বাড়বে, যা হবে সবচেয়ে বেশি আমের উত্পাদন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে সবচেয়ে বেশি আমের উত্পাদন হয়। এর পরে রয়েছে পবা, বাগমারা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা।

আম চাষিরা জানান, প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী আমগাছে এক বছর পর পর বেশি আম আসে। এর ফলে এক বছর অফ ইয়ার হলে, পরের বছরকে ধরা হয় অন ইয়ার। এর অর্থ হলো, এক বছর কম আম আসে তো পরের বছর তুলনামূলক বেশি আসে। সেই হিসাব মতে, গত বছর ছিল আমের অফ ইয়ার। এবার সেটি হয়েছে অন ইয়ার। এবার আবহাওয়াও রয়েছে অনুকূলে। বছরের শেষ শীতের দিকেও এবার তেমন কুয়াশা দেখা যায়নি। যদিও মুকুল আসার পরে গত ৩ ও ৪ মার্চ রাজশাহীতে হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এই বৃষ্টিতে আমের মুকুলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

রাজশাহীর বাঘার আম চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার আমের মুকুলের সঙ্গে আশায় বুক বাঁধছি আমরা। আশা করছি মৌসুম শেষে এবার লাভবান হব আমরা। ’

বাঘার হাবাসপুর গ্রামের আম ব্যবসায়ী ও চাষি আশরাফুল ইমলাম বলেন, ‘এবার আমগাছে যে পরিমাণে গুটি এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে বাম্পার ফলন হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এবার প্রতিটি ৮-১০ বছর বয়সের ছোট আকারের একটি আমগাছেও অন্তত দুই-তিন মণ আম আসবে, ভালো জাতের একটি আমগাছ থেকেই কমপক্ষে চার হাজার টাকার আম বিক্রি করা যাবে। ’

দুর্গাপুরের আম চাষি আলতাফ হোসেন জানান, ‘এবার সাধারণ প্রক্রিয়া ছাড়াও ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতেও আমের চাষ করা হবে। যা হবে একেবারে কেমিক্যালমুক্ত। এই পদ্ধতিতে চাষ করা আমের চাহিদা বাড়ার কারণেই আমিও এবার ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করব। ’

রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমের গুটি টিকিয়ে রাখতে সাইপারমেটথ্রিন জাতীয় কীটনাশক এক মিলিমিটার এবং ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক দুই গ্রাম এক লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া খরা দেখা দিলে প্রতি ১৫-২০ দিনের মাথায় দুই-তিনবার আম বাগানে সেচ দিয়ে পরিচর্যা নিতে হবে। তা না হলে খরায় আমের গুটি ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ’


মন্তব্য