kalerkantho


চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে বিরোধ

কর্মসূচিতে নেই এমপি আফছার ও লতিফ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কর্মসূচিতে নেই এমপি আফছার ও লতিফ

চট্টগ্রাম মহানগরের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছেন। আওয়ামী লীগের দুই এমপির মধ্যে ডবলমুরিং-হালিশহর-পাহাড়তলী আসনে ডা. আফছারুল আমীন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আর বন্দর-পতেঙ্গা আসনের এম এ লতিফ একই কমিটির নির্বাহী সদস্য।

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই দুই সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে নেই। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত দলীয় আলোচনাসভায়ও তাঁদের দেখা যায়নি। এ নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগও দিবসকেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও দলীয় কার্যালয়ে কোনো সভা হয়নি। কয়েক মাস ধরে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সভা নেই। কমে গেছে বর্ধিত সভাও। নেই ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি। সব মিলিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গত মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, “চট্টগ্রাম মহানগরে গত নির্বাচনে দলের নৌকা প্রতীক মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করে যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা দলীয় ও জাতীয় দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেন না। মনে হয় তাঁরা দলের কেউ নন। মাঝে মাঝে এমনও মনে হয় যেন তাঁরা দলের জন্য ‘গর্বা’ (অতিথি)। অথচ ওই সংসদ সদস্যরা মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে আছেন। এমপিরা দলের কর্মসূচিতে না থাকাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার। তাঁরা একসঙ্গে দলীয় কর্মসূচিগুলোতে থাকলে দল আরো শক্তিশালী হতো। ” নগরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থবিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে অন্তত একটি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা এবং তিন-চার মাস অন্তর বর্ধিত সভা হওয়ার কথা। নিয়ম রয়েছে এসব সভা করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর। কিন্তু তা হচ্ছে না। ’

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মহানগর আওয়ামী লীগে প্রায় এক বছর ধরে শুধু দিবসকেন্দ্রিক এবং কেন্দ্র নির্দেশিত কর্মসূচিই পালন হচ্ছে। মহানগর আওয়ামী লীগ থেকে আগের মতো তৃণমূলে কোনো নির্দেশনা যাচ্ছে না। আর যেসব কর্মসূচি হচ্ছে সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা দুই সংসদ সদস্যকে দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা কেন যাচ্ছেন না আমার জানা নেই। তবে ডা. আফছারুল আমীন মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে না এলেও তিনি নিজ সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এমপি লতিফের সঙ্গে তাঁর এলাকার বেশির ভাগ নেতাকর্মীরও যোগাযোগ নেই। তিনি দলীয় কর্মসূচি খুব একটা পালন করছেন না বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন। ’

দলীয় সূত্র জানায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এম এ লতিফ ও ডা. আফছারুল আমীনের বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতির অভিযোগ এনে লতিফবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে মহিউদ্দিনের অনুসারীরা। নেতাদের মধ্যে একে অপরের বিরোধের কারণে ওই দুই নেতা নগর কমিটির কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না।

ডা. আফছারুল আমীন ও এম এ লতিফ দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা দল ধ্বংস করছে। তারা দেশের স্বাধীনতাবিরোধী। এখন পদ-পদবি পেয়ে তাদের পোয়াবারো হয়েছে। তারা কখনোই দলের দুঃসময়ে ছিল না। দুঃসময়ে পালিয়ে ছিল। এখন সুসময়েও নেই। দুঃসময়ে দলকে শক্তিশালী ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে আমিই মাঠে ছিলাম। এখনো দলীয় কর্মকাণ্ডে কেউ আসুক বা না আসুক, নিজেই দলকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। দলকে আরো শক্তিশালী করব। ’

কর্মসূচিতে না থাকা প্রসঙ্গে ডা. আফছারুল আমীন এমপি বলেন, ‘সংসদ অধিবেশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাকে অধিকাংশ সময় ঢাকায় থাকতে হয়। আবার চট্টগ্রামে যখন যাই তখন নিজ সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে হয়। নগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে ৯ জন সহসভাপতির মধ্যে আমি চতুর্থ। বিগত কমিটিগুলোতে দেখা গেছে, কেউ কেউ এক মিটিংয়েও যাননি। দেখা গেছে তাঁরা আবার পরবর্তী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এ রকম নজিরও আছে। আমাদের পরিচয় দলের কর্মী। কর্মী হিসেবে থেকেই দলকে শক্তিশালী করার জন্য এলাকায় কাজ করছি, করে যাব। ’

কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এম এ লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনটি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমি। এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড এবং সংসদ চলাকালীন ঢাকায় থাকি। তখন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারি না। তবে চট্টগ্রামে থাকলে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ছোট-বড় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিই। তবে আমি না থাকলেও নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমার নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীরা তা পালন করছেন। ’

মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এম এ লতিফ বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারো বিরোধ নেই। যদি কারো মনে কষ্ট থাকে তা বোঝার ভুল। আমার জানামতে আমি কাউকে কষ্ট দিইনি। আমরা যারা দল করি তাদের সবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাই—দল, প্রধানমন্ত্রী ও জাতির বড় অর্জনগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরা। ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। ’


মন্তব্য