kalerkantho


প্রশাসনে নারীরা কম দুর্নীতিগ্রস্ত

আশরাফুল হক রাজীব   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রশাসনে নারীরা অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতি বা অনিয়ম করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় তা পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, নারীরা বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়ও এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোটা থাকলেও মেধাতালিকায়ও তাঁরা স্থান করে নিচ্ছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বিসিএসের ফলাফলে দেখা গেছে, সম্মিলিত মেধাক্রমের শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনই নারী। অথচ এর পরও প্রশাসনে তাঁদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডে কেয়ার সেন্টারের অভাব। এ ছাড়া পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাও একটা বড় সমস্যা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৫ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ৯০ জন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীকে দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য শাস্তি দেয়। তাঁদের মধ্যে ৭৪ জনই পুরুষ। বাকি ১৬ জন নারী।

শতকরা হিসাবে যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮২ ও ১৮ শতাংশে। ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ও ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ অনুসারে এসব শাস্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে ৯৫ জনকে চাকরিচ্যুতিসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাঁদের মধ্যে নারী ২১ ও পুরুষ ৭৯ শতাংশ।

নারী সংহতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কানিজ ফাতেমা কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি চাকরিতে নারীরা কম দুর্নীতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিকভাবে তাঁরা ভালো অবস্থানে নেই। সরকারি চাকরিজীবী নারীরা ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও বেসরকারি সেক্টরে এটা কার্যকর নেই। নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য এখনো প্রকট। নির্দিষ্ট শ্রমঘণ্টার দাবিতে মাঠে নেমে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হন। এখনো ডে কেয়ার সেন্টারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে ৪০-এর অধিক কর্মী থাকলে ডে কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও সরকারের উদাসীনতায় এর কোনো বাস্তবায়ন নেই। তার পরও নারী যেটুকু এগিয়েছে সেটা তার নিজের যোগ্যতায়।


মন্তব্য