kalerkantho


মজুরি বাড়ছে নারীর

আরিফুর রহমান   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মজুরি বাড়ছে নারীর

পাঁচ বছর আগেও বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর। এখন সেটা ৭২ বছর। ২০১২ সালে কৃষি খাতে একজন নারী শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ১৯৫ টাকা। এখন সে মজুরি বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা। পাঁচ বছর আগে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ছিল এক কোটি ৬০ লাখ। সেটি বেড়ে উন্নীত হয়েছে এক কোটি ৮৩ লাখে। এসব হালনাগাদ তথ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)।

বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাদের বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, একজন নারী পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি কাজ করে। সেগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে অন্যসব কাজ। এর মধ্যে রয়েছে সন্তান লালন-পালন, দৈনন্দিন বাজার, সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে সময় দেওয়া এবং গৃহস্থালির কাজ।

এসব কাজের স্বীকৃতি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে না। যদিও এসব কাজে নারীরা প্রচুর সময় দিচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ—সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, একজন নারী তার ঘরে থেকে দৈনন্দিন যেসব কাজ করে, সেসব কাজের প্রাক্কলিত বার্ষিক মূল্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৭৭ শতাংশের সমপরিমাণ। কিন্তু অর্থনীতিতে এই অর্থ যোগ হয় না। অবশ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার রীতিও নেই।

বিবিএসের কৃষি উইংয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, কৃষি খাতে এখন একজন নারী দৈনিক মজুরি পায় ২৫৯ টাকা। আর দুপুরের খাবারসহ মজুরি পায় ২৪২ টাকা। অথচ পাঁচ বছর আগে একজন নারীর মজুরি ২০০ টাকারও কম ছিল। একজন নারী সবচেয়ে বেশি দৈনিক মজুরি পায় ঢাকা বিভাগে-২৮৭ টাকা। এর পরে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ-২৮৫ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ময়মনসিংহ বিভাগ-২৭০ টাকা। সবচেয়ে কম মজুরি পায় খুলনা বিভাগের নারীরা, দৈনিক ২২২ টাকা। কৃষি উইংয়ের উপপরিচালক আকতার হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন নারীদের সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ দেখা যায় ফসল তোলায়। এ ছাড়া ফসল চাষাবাদ, বীজ লাগাতেও নারীদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পুরুষের গড় আয়ু নারীদের তুলনায় তিন বছর কম—৬৯ বছর। ২০১২ সালে পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৬৭ বছর।

রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নূর উন নবী চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, একসময় নারীরা ব্যাপক অপুষ্টিতে ভুগত। চিকিৎসাসেবাও ততটা ছিল না। নারীরা নানাভাবে অবহেলিত ছিল। তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধাও কম ছিল। তবে এখন নারীরা অনেক সচেতন। সরকারের নানা ধরনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচির কারণে নারীদের গড় আয়ু বেড়েছে। তারা এখন বেশ আত্মনির্ভরশীল। স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্নশীল নারীরা।

অর্থনৈতিক শুমারির প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নারীরা আগে পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিল। এখন তাদের শিক্ষার হার বেড়েছে। গত এক দশকে দেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার হার বেড়েছে।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তির জরিপ বলছে, নারীরা আগে বিনা পয়সায় কাজ করত। সে ধারায় পরিবর্তন এসেছে। ২০১০ সালে পরিবারভিত্তিক বিনা বেতনে কাজ করত ৯১ লাখ নারী। সেটি এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪ লাখে। জরিপে দেখা গেছে, দেশে এখন কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি ১৪ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৩১ লাখ আর নারী এক কোটি ৮৩ লাখ।


মন্তব্য