kalerkantho


মেহেরপুরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে গলা কেটে হত্যা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে মেহেরপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল সোমবার সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাঁঠালপোতা গ্রামের মদনাডাঙ্গা মাঠ থেকে আব্দুল মজিদ (৬০) ও আশাদুল ইসলামের (৫০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ার কথা বলা হলেও নেপথ্যে দলীয় কোন্দল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মামলত হোসেনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে বলে তাঁর স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আব্দুল মজিদ এলাকায় কাঠের ব্যবসা করতেন। আশাদুল ইসলাম ছিলেন দিনমজুর। তাঁদের বাড়ি কাঁঠালপোতা গ্রামের মালিথাপাড়ায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই দুই সক্রিয় কর্মী রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে মজনুর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় ১০ থেকে ১২ জনের একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে তাঁদের অপহরণ করে। পরে রাত ১১টার দিকে আব্দুল মজিদের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর ছেলে আব্বাস আলীর মোবাইলে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল স্থানীয়দের সহায়তায় রাতেই অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাঁদের সন্ধান পায়নি।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে পাশের কাঁঠালপোতা গ্রামের মদনাডাঙ্গা মাঠে অপহৃত দুজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্বাস আলী বলেন, “বাবার মোবাইল নম্বর থেকে রাত ১১টার দিকে ফোন করে অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। একই সঙ্গে হুমকি দেয়, ‘টাকা না দিলে সকালে তোর বাপের লাশ পাবি। ’ এ সময় তাদের সাথে টাকার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সমাঝোতায় আসতে চায়নি। পরে ‘সকালে লাশ পাবি’ বলে ফোন কেটে দেয়। ” কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘গ্রামে এ ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। আমরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ’ 

স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর আশাদুল ইসলাম বেশ কয়েক বছর আগে চরমপন্থী দলের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করলেও আগের কোনো শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় অনেকে।

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে ইউপি সদস্য আরজান আলীর সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য মামলত হোসেনের বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। গত ইউপি নির্বাচনে আরজান আলীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেন আব্দুল মজিদ ও আশাদুল ইসলাম। সে ধরনের রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব থেকে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তা নিয়েও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলত হোসেন ও আরজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। মামলত হোসেনের স্ত্রী বেলী খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘মামলত আমাকে ফোন করে জানিয়েছে যে গোয়েন্দা পুলিশ মেহেরপুর আদালত এলাকা থেকে তাকে আটক করেছে। তার পর থেকে মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ’

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ‘ক’ অংশের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘আব্দুল মজিদ ও আশাদুল দুজনই আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তা বলা যাচ্ছে না। ’

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সদর থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরীসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ‘দুজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা কর হচ্ছে, মুক্তিপণ না পেয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি তদন্ত চালানো হচ্ছে। ’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে এ ধরনের সাধারণ প্রকৃতির দুজন মানুষ খুন হওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। তবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।


মন্তব্য