kalerkantho


স্থায়ী ক্যাম্পাসে গমন

কঠিন শর্তে আবারও সময় পাচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বেসরকারি ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আবারও সময় পেতে যাচ্ছে। তবে বর্ধিত এই সময়ের মধ্যে নতুন বিভাগ অনুমোদন ও সমাবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের চিন্তাভাবনা চলছে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের ব্যাপারেও আলোচনা হচ্ছে। তবে সবার ক্ষেত্রে নয়, এর আগে পাঁচ দফা সময় নিয়েও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আজ মঙ্গলবার সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী, ইউজিসি চেয়ারম্যান, ইউজিসি সদস্যগণ, মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিব, ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত থাকবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সাল থেকে পাঁচবার সময় বৃদ্ধির ফলে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় পেয়েছিলেন ৩৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা। সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে মাত্র ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়। পাঁচ দফা সময় পেয়েও স্থায়ী ক্যাম্পাসে এখনো যেতে পারেনি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্প্রতি একাধিক সমাবর্তনে বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি এবং যারা একাধিক ক্যাম্পাসে পাঠদান পরিচালনা করছে তারা আইন অনুসারে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠান চালাতে না পারলে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য আরো সময় চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। চিঠিতে প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা সংশোধন করে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ঋণ সুবিধাও চাওয়া হয়েছে।

সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা সত্ত্বেও কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে জমি কিনেছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান রাজউক থেকে নকশার অনুমোদনও নিয়েছে। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিধিমালার বিভিন্ন শর্তের কারণে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে পারছে না।  

সমিতির বক্তব্যে বলা হয়, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে যে ব্যয় তা জোগাতে ব্যাংকঋণের বিকল্প নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে পারে না। কোনো ব্যক্তির একক চেষ্টায় অখণ্ড এক একর নিষ্কণ্টক জমি সীমাহীন উচ্চমূল্যে কিনে আবার একক চেষ্টায় ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাই ঋণ সুবিধার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারারও সংশোধন চায় তারা।  

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আব্দুল্লাহ আল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে অনেক কিছুই আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত করণীয় ঠিক করতে সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে। প্রথমে নিজেরা বসছি। প্রয়োজন হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বসা হবে। ’


মন্তব্য