kalerkantho


১৪ উপজেলা ও ৪ পৌরসভায় নির্বাচন

সুষ্ঠু ভোটে আ. লীগের জয়জয়কার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সুষ্ঠু ভোটে আ. লীগের জয়জয়কার

গতকাল সোমবার ১৪ উপজেলা ও ৪ পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার হয়েছে।

১৪ উপজেলার মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ ৩টিতে বিএনপি ও ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। গতকাল রাতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চার পৌরসভার মধ্যে রাতে পাওয়া একটি ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সব নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম ছিল বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই প্রথম বড় পরিসরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তবে আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আরো প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ইসি।

গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচন উপলক্ষে কমিশন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছিল। তাই কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। কোনো অভিযোগও আসেনি। কোথাও নির্বাচনী পরিস্থিতির অবনতির খবর পাওয়া যায়নি।

এ জন্য নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ’

বিস্তারিত আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

গতকাল সিলেটের ওসমানীনগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পুরো উপজেলায় নির্বাচন হয়। আরো ১১টি উপজেলায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছয়টিতে চেয়ারম্যান পদে, চারটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ও একটিতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া চার পৌরসভার মধ্যে একটিতে মেয়র পদে বাকি তিনটির তিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হয়।

১৪ উপজেলা ও চার পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে বলতে গিয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘এ নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট ছিল কম। এর কারণ যেহেতু এটি উপজেলা নির্বাচন এবং এর মধ্যে উপনির্বাচন ছিল বেশি, তাই ভোটার উপস্থিতিও ৬০ শতাংশের কম হয়েছে। ’

সচিব বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই নির্বাচন হবে চরম প্রতিযোগিতামূলক। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে সচেতন ভোটারদের উপস্থিতিও। তাই নির্বাচনটিতে ভোট পড়ার হারও বাড়বে।

সচিব জানান, আগামী ৯ মার্চ এ নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ইসি সচিবালয়ের সভাকক্ষে। এ নির্বাচন নিয়ে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, গাইবান্ধা-১ ও সুনামগঞ্জ-২ উপনির্বাচনে সিইসি খান মো. নুরুল হুদা নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে মতবিনিময় করবেন এবং সিইসির সঙ্গে তিনিও থাকবেন বলে সচিব জানান।

কুমিল্ল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনই আমরা সমান গুরুত্ব দিই। কুমিল্লা সিটি নির্বাচন যেহেতু বড় নির্বাচন, তাই সেখানে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। যাতে কোনোভাবেই কোনো ঝামেলা না হয়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের টিম গঠন করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। কেউ অনিয়ম করলে কাউকে কোনো ছাড় না দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। ’

১৪ উপজেলায় নির্বাচনের ফল : পাবনার সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল কাদের রোকন ৮৬ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিদলীয় প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেন চুন্নু পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮৬৩ ভোট।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জহিরুল ইসলাম মবিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩২৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সোহেল পেয়েছেন ২১ হাজার ৩২৮ ভোট।

নাটোর বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাসেল পেয়েছেন ৩৯ হাজার ২০৬ ভোট।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৯৯ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি মনোনীত রেজাউল কাইয়ুম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৫৩ ভোট।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৬৫ ভোট।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ ৪১ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মশিউর রহমান পেয়েছেন ১৫ হাজার ১৩৩ ভোট।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরাফাত হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৯১ ভোট। আর পরাজিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান শাহাজাদা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৭২ ভোট।

খাগড়াছড়ির গইমারা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী উশেপ্রু মারমা ছয় হাজার ৮৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মে মং মারমা পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৭৬৯ ভোট।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ৩৪ হাজার ৯০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন আকন পেয়েছেন দুই হাজার ৪৯ ভোট।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফাহিমা খানম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৫৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী বদিউজ্জামান খান পেয়েছেন দুই হাজার ৭৩৪ ভোট।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা মনিনুন নাহার মেরী জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. মনজুর হোসেন মিলন পেয়েছেন দুই হাজার ৭৮২ ভোট। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম ফারুক বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চোকদার  পেয়েছেন তিন হাজার ৫৫০ ভোট।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসের পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৯৮ ভোট।

পৌরসভা : গলাচিপা পৌরসভা উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আহসানুল হক তুহিন ছয় হাজার ২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান পেয়েছেন ৮১৪ ভোট।


মন্তব্য