kalerkantho


সরষের ভূত তাড়াতে সক্রিয় দুদক

রেজাউল করিম   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সরষের ভূত তাড়াতে সক্রিয় দুদক

সারা দেশে বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করতে সাড়া জাগানো কার্যক্রম পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১০ মাসে সংখ্যাটা সাড়ে চার শতাধিক।

একই সঙ্গে গত বছরে প্রতিষ্ঠানটির দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগেরও তদন্ত শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, গত বছর দুদকের বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। আরো ১২টি মামলা আগে থেকেই অনিষ্পত্তি অবস্থায় ছিল। এই ২৬ মামলার ১৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে গত বছর। এর মধ্যে দুজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আরো দুজনকে বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই বছরে দুদকের ২০ জন আইনজীবীকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুদক ওই পদক্ষেপ নেয়।

দুদক জানায়, চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। প্রধান কার্যালয়ের এক উপপরিচালকসহ দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের কাজ চলছে। নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি জোরেশোরে কাজ করে চলেছে।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তে নেমে কমিটি অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এর মধ্যে একজন উপপরিচালকও রয়েছেন, যিনি অবৈধভাবে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ির মালিক হয়েছেন।

সূত্র জানায়, শিগগিরই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দুদক। এই শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত ও শাস্তিমূলক বদলির আদেশ দেওয়া হতে পারে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরে দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত কিছু অনিয়ম রয়েছে। হাজার হাজার মামলা ডিপ ফ্রিজে পড়ে আছে। ৩০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একটি মামলার তদন্তও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি। কেন এসব নথি পড়ে আছে তার ৮৭৩টি ব্যাখ্যা দিতে দুদকের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। ডিপ ফ্রিজে থাকা ও দায়মুক্তি দেওয়া মামলাগুলো তদন্ত করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘একটি সংস্থার ভেতরে যদি এই অবস্থা চলে, তাহলে কিভাবে সংস্থাটি কাজ করবে? সংস্থার ওপরে কিভাবে মানুষ বিশ্বাস রাখবে? মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। দুর্নীতি প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। কমিশন ঘর থেকেই সংশোধন শুরু করেছে। এরই মধ্যে পদ্ধতিগত অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে। ’

দুদকের একটি সূত্র জানায়, কারো বিরুদ্ধে দুদকে আসা অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে অনেক বেশি সময় লাগছে। অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দুদক চেয়ারম্যান।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজে গতি আনতে এবং জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে দুদক। তারই ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ সংস্কারে জোর দেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, দুদক এখন আগের চেয়ে বেশ শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যে দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে ভেতরে স্বচ্ছতার অভাব ও দুর্নীতি-অনিয়ম থাকলে সংস্থাটি জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হবে। তাই সেই সমস্যার সমাধান করাটা জরুরি।


মন্তব্য