kalerkantho


পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশের তাড়া খেয়ে নদীতে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুর গ্রামে পুলিশের তাড়া খেয়ে ভৈরব নদে পড়ে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামের এক আম ব্যবসায়ী মারা গেছেন। ভোলা থেকে আসা এই ব্যবসায়ীর মেয়ের বাড়ি রসিকপুর গ্রামে। মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে অগ্রিম আম কিনতে দুই সপ্তাহ আগে তিনি মুজিবনগরে এসেছিলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর অভিযোগ, আলমগীর নদ থেকে তীরে উঠতে চাইলেও বারবার তাঁকে ধাওয়া দিয়ে মাঝ নদে পাঠায় পুলিশ। পুলিশ নিরীহ লোকদের হয়রানি করে বলেই তিনি পুলিশের ধাওয়ার মুখে নদে ঝাঁপ দেন।

হতভাগা আলমগীর হোসেন ভোলা সদর উপজেলার ইলিশ জংশন এলাকার আবদুর রবের ছেলে। তিনি মুজিবনগরের রসিকপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের শ্বশুর। ঘটনার সময় তিনি মেয়ে জামাইয়ের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি চা দোকানের সামনে বসে অন্যদের সঙ্গে গল্প করছিলেন।

গত রবিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন আলমগীরের লাশ নদ থেকে তুলে আনে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করলে নিহতের স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে।

ঘটনার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, আলমগীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন রসিকপুর গ্রামের ভৈরব নদের কিনারে মোতালেবের চায়ের দোকানে বসা ছিলেন। ঘটনার সময় মুজিবনগর থানার এসআই আবু তাহেরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে জুয়াড়ি ধরতে অভিযান চালায়। এ সময় আলমগীর হোসেন, রেজাউল হোসেন ওরফে খোকন, জাহান আলী এই তিনজন পুলিশের ভয়ে দৌড়ে ভৈরব নদে ঝাঁপ দেন। তাঁদের মধ্যে খোকন ও জাহান সাঁতরে ওপরে উঠতে পারলেও আলমগীর হোসেন সাঁতার না জানার কারণে নদে ডুবে যান।  

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে নিহত আলমগীরের মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের তোপের মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সহকারী পুলিশ সুপার তাঁদের বুঝিয়ে লাশ নিয়ে যান।

আলমগীর হোসেনের মেয়ের শ্বশুর আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমার বেয়াইয়ের কোনো বাজে অভ্যাস নেই। ’

স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে জানায়, পুলিশ বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন বেশে এসে সাধারণ মানুষের হয়রানি করে চলেছে। যাকে-তাকে আটক করে যেকোনো মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে।

এদিকে নদে ঝাঁপ দেওয়া রেজাউল ওরফে খোকনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। খোকনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, রাতে ঘটনার পর বাড়িতে এসে কাউকে কিছু না বলে সকালে আবার চলে গেছে। কোথায় গেছে কাউকে কিছু জানায়নি বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।

মোনাখালী ইউপি সদস্য জহির উদ্দিন বলেন, জুয়া আর মাদকের নামে পুলিশ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আলমগীর হোসেন অন্য এলাকার মানুষ হলেও দীর্ঘদিন তাঁর এখানে যাতায়াতের কারণে তিনি এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনিসহ তিনজন পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভৈরব নদে ঝাঁপ দিয়েছেন। পুলিশ তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা না করে বরং বারবার তাড়া দেওয়ায় তিনি ওপরে উঠতে পারেননি এবং সাঁতার না জানার কারণে নদে ডুবে মারা গেছেন।

মেহেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আহসান হাবিব বলেন, গোপন সংবাদ ছিল সেখানে জুয়া খেলা হচ্ছে। এমন একটি সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করলেও তাদের কাছে কোনো টাকা পয়সা ও অন্য কিছু না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য