kalerkantho


রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সোনালি আঁশ পাটের ২০০ ফুট দীর্ঘ ক্যানভাসে তুলির আঁচড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন সংসদ সদস্যরা। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এ কথা বলেন।

তাঁরা বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আবারও দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান ও নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র করছেন। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, হুইপ মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, সরকারি দলের ড. হাছান মাহমুদ, এইচ এন আশিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও মামুনুর রশিদ কিরণ এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। দেশ ও জনগণের শত্রুরাই এখন দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রধান ধারা। এরাই বিএনপি-জামায়াত ও পরাজিত অপশক্তি। দেশের গণতন্ত্র হত্যা করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর এজেন্ডা নির্বাচন নয়, অন্য কিছু। খালেদা জিয়ার মডেল হচ্ছে তালেবানি শাসন, সামরিক শাসন।

বিএনপি যখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চায়, তখন বুঝতে হবে তারা গণতন্ত্র ও সংবিধানকে আবারও ধ্বংস ও নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে চায়।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকেই উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাননি, দক্ষভাবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস শুধু ষড়যন্ত্রকারীই নন, সবচেয়ে বড় সুদখোরও। তাঁকে অর্থমন্ত্রী কেন প্রশংসা করলেন জানি না। ড. ইউনূস কোনো দিন শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে যাননি। যতই নোবেল আনুক, জনগণ তাঁকে কোনো দিনই মেনে নেবে না। হুইপ শাহাব উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়ে ড. ইউনূসগং দেশের অগ্রগতিকে থমকে দিতে চেয়েছিল। পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল তারা দেশবিরোধী। তাদের ষড়যন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল তা আন্তর্জাতিক আদালতে প্রমাণ হয়েছে। জনগণ এই সন্ত্রাসী দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, জাতীয় সংসদ কী সার্বভৌম? সংসদে কোনো আইন পাসের পর আদালত যদি তা বাতিল করে দেন তবে সংসদের কর্তৃত্ব কিভাবে থাকে? সংসদের মর্যাদা রাখব কি রাখব না, সেটি এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


মন্তব্য