kalerkantho


ঝড়-বজ্রপাতে দুজনের প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মৌসুমে প্রথমবারের মতো বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড় আঘাত হেনেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল রবিবার বরিশাল ও ভোলায় ঝড়ে ঘরের চালা ভেঙে পড়ে ও বজ্রপাতে এক কিশোরসহ দুজন প্রাণ হারিয়েছে। চালবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত আজ সোমবারও অব্যাহত থাকবে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

বরিশাল অফিস জানায়, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গতকাল বিকেলে প্রচণ্ড ঝড়ের সময় বজ্রপাতে এক গৃহবধূ প্রাণ হারান। তিনি উপজেলার বাহাদুপুর গ্রামের পরেশ গাইনের স্ত্রী মলিনা গাইন। এ ছাড়া বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে এক মক্তবের চালা ভেঙে ১০ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়। অন্যদিকে মুলাদী উপজেলায় ঝড়ে ডুবে গেছে চালবোঝাই ট্রলার। এতে ওমর সরদার ও বেল্লাল মৃধা নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।

তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  

আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কে এম শফিক জানান, গতকাল বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে উঠোনে থাকা শুকনো লাকড়ি আনছিলেন মলিনা। এ সময় নারিকেলগাছে বজ্রপাত হলে মলিনা গাইন আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় তিনি মারা যান।

এ ছাড়া বিকেল ৪টার দিকে ঝড়ের তাণ্ডবে মাঈনুদ্দিন মল্লিকের বাড়ির মক্তবের চালা ভেঙে ১০ শিশু আহত হয়। বিধ্বস্ত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘর।

মুলাদীতে ঝড়ে কাজিরচর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ডুবে গেছে চালবোঝাই ট্রলার। ওমর সরদার ও বেল্লাল মৃধা ধান ভাঙিয়ে ট্রলারযোগে প্রায় ১০০ মণ চাল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে আড়িয়াল খাঁর শাখা নদীতে কাঠের চর এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেলে আঘাত হানা ঝড়ে সদর উপজেলায় ঘরের চাল ভেঙে পড়ে রাজীব (১৩) নামে এক কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। তার বাড়ি পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চরপাতা গ্রামে। বাবার নাম মো. কামাল। এ সময় কালাসুরা ও দরিরাম শংকর গ্রামে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। আহত হয় কমপক্ষে পাঁচজন। ঝড়ে বিপুলসংখ্যক গাছপালা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।


মন্তব্য