kalerkantho


সংসদে অর্থমন্ত্রী

কোনো দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কোনো দেশকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হয়নি

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধায় এখনো কোনো দেশকে পণ্য পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডাব্লিউটিটি) চুক্তির আওতায় ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধায় ভারত থেকে পণ্য পরিবাহিত হয়।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অথর্মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী। লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, চারদেশীয় যান চলাচল চুক্তির আওতায় ইতিমধ্যে  পরীক্ষামূলকভাবে আখাউড়া স্থলবন্দর হয়ে ভারতের ত্রিপুরায় পণ্যবোঝাই ট্রাক গেছে। আর অবকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য মাসুলও নিয়েছে বাংলাদেশ।

বিরোধীদলীয় সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের শেয়ারের পরিমাণ কম হওয়ায় সরকারের পক্ষে ইসলামী ব্যাংককে ঢেলে সাজানো বা কোনো বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব নয়। কারণ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড বেসরকারি খাতের একটি লিমিটেড কম্পানি। ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা কম্পানিটির মালিক। শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক নির্বাচিত পরিচালকরা এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। মন্ত্রী আরো জানান, ইসলামী ব্যাংকে সরকারের শেয়ার মাত্র শূন্য দশমিক ০০১৩ শতাংশ হওয়ায় ব্যাংকের কার্যক্রমকে ঢেলে সাজানোর জন্য সরকারের পক্ষে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ বা কর্মসূচি গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক লাখ ১৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকার সমপরিমাণ বিদেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় দুই হাজার ১৩৬ কোটি টাকা কম।

সরকারি দলের আরেক সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থপাচার রোধে বর্তমানে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ কার্যকর আছে, যা গত ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর সর্বশেষ সংশোধিত হয়। এ আইনের বিধান অনুসারে আমদানির ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন, রপ্তানির ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন অথবা কোনো অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠালে বা দেশে আনয়নযোগ্য অর্থ বিদেশে রেখে দিলেও অর্থপাচার হিসেবে গণ্য করা হয়।

আওয়ামী লীগের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী পণ্যের পরিমাণ, বর্ণনা, সংখ্যা, মূল্যে অসত্য বর্ণনা প্রদান করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করে থাকে। এই রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রম অনলাইনে করার জন্য ইতিমধ্যে দেশের সব কাস্টম হাউস এবং গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনে অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে এই সফটওয়্যারটির সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এটির মাধ্যমে কাস্টমস সম্পর্কিত কার্যক্রম অনলাইনে করে অপঘোষণা প্রতিরোধ করা হচ্ছে।


মন্তব্য