kalerkantho


নির্বাচনকে প্রভাবিত করা চলবে না : ইসি সচিব

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচনকে প্রভাবিত করা চলবে না : ইসি সচিব

আজ সোমবার দেশের ১৪টি উপজেলা পরিষদ ও চারটি পৌরসভায় ভোট। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নবগঠিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কিছুটা বড় পরিসরের নির্বাচন। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।

আজকের এ নির্বাচন সম্পর্কে গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নবগঠিত ইসির জন্য এটাই প্রথম কিছুটা বড় মাপের নির্বাচন। এ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করছি। ’

সচিব জানান, ১৪টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় নির্বাচন হলেও কমিশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তিনটি উপজেলায় সাধারণ নির্বাচনকে। অন্য নির্বাচনগুলোর বিষয়েও সতর্কতার ঘাটতি নেই।  

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে আগের কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভোটের দিনের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মারা। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্র দখলও ছিল অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা।

ওই অবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে আপনারা বিশেষ কী ব্যবস্থা নিয়েছেন—এ প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘সে ধরনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্যই প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্য সব নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সভা করে এসেছেন।   ওই সব  বৈঠকে সব ধরনের অনিয়ম রোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না। ’

এ নির্বাচনে প্রভাবশালীদের জন্য কমিশনের বার্তা কী—এ প্রশ্নে সচিব বলেন, কোনোভাবেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা চলবে না। সবাইকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা করতে হবে।

এ নির্বাচনে কমিশনের বাড়তি সতর্কতা সম্পর্কে সচিব বলেন, মিডিয়া নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক হতে সহযোগিতা করছে। এ কমিশন বিতর্ক এড়াতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আগ্রহী।

সচিব জানান, এ নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। সুনামগঞ্জে যে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা ঠিক নির্বাচনের কারণে নয়।

কিন্তু প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। পাবনার সুজানগর উপজেলার উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে ১৩টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এ তথ্য সম্পর্কে সচিব বলেন, ‘আমি চারটি অভিযোগ দেখেছি। এর মধ্যে একটি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো। ওই অভিযোগ সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগতভাবে পাবনার ডিসি ও এসপির সঙ্গে কথা বলেছি। বাকি তিনটিতে ভবিষ্যতে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ’

এ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য কী কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ পর্যন্ত কোথাও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না সে তথ্য আমার কাছে এখন নেই। ’

সোমবারের এসব নির্বাচন ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আসন্ন। এ নির্বাচনে সরকারের দুই মন্ত্রী নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে সচিব বলেন, গণমাধ্যমে কোনো তথ্য এলে তা বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া রয়েছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তার কাটিং কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। কুমিল্লার ওই ঘটনা সম্পর্কে কোনো পেপার কাটিং কমিশনে এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।

আজ মোট ১৮ উপজেলা ও চার পৌরসভায় ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি থাকলেও চার উপজেলায় ভোট হচ্ছে না। চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচনে কুড়িগ্রাম সদর এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে। বাকি ১৪টি উপজেলার মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগর, খাগড়াছড়ির গুঁইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সব পদেই ভোট হবে। এ ছাড়া শুধু চেয়ারম্যান পদে বরিশালের বানারীপাড়া, গৌরনদী, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর, পাবনার সুজানগর ও  কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে উপনির্বাচন হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাটোরের বড়াইগ্রাম, নীলফামারীর জলঢাকা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাবনার ঈশ্বরদীতে ভোটগ্রহণ হবে।

এ ছাড়া আজ পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় চেয়ারম্যান পদে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভায় সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে, টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভায় ২ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে এবং বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় ৭ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

এদিকে এসব উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী এড়াতে পারেনি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ও সিলেটের ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সহিংসতায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। আরো কয়েকটি উপজেলায় সহিংসতা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিএনপির প্রার্থীদের প্রচার না চালাতে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে নতুন নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী।


মন্তব্য