kalerkantho


খুলনায় দেশসেরা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে ওয়াসা

অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের পরামর্শ

কৌশিক দে, খুলনা   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খুলনায় দেশসেরা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে ওয়াসা

খুলনায় আধুনিক পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা ওয়াসা। এ বিষয়ে একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে।

এখন ‘প্রকল্প ছক’ (প্রজেক্ট প্রফর্মা) তৈরির কাজ চলছে, যা অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে শিগগিরই পাঠানো হবে। খুলনা ওয়াসা মনে করে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় খুলনা হবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক শহর। তবে প্রকল্পের সাফল্যের জন্য সিটি করপোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও নগরীর অন্যান্য সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা।

খুলনা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে শিল্পনগরী খুলনায় আধুনিক পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়। ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে এ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে তিনটি ধাপে আগামী ২০৩০ সালে শেষ হবে। অচিরেই খুলনা ওয়াসা এ বিষয়ে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফর্মা (ডিপিপি) তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

প্রকল্পের আওতায় মাটির ১০ মিটার গভীরে ৩০০ কিলোমিটার স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপন করা হবে।

নগরীর লবনচরা, আড়ংঘাটা ও দৌলতপুর এলাকায় তিনটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং ১২টি পাম্প স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। তিনটি শোধনাগারের (ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা পানি পরিশোধন করা হবে। পরে পরিশোধিত পানি নদীতে ফেলা হবে। আর বর্জ্য ব্যবহার করা হবে নিচু জমি ভরাট ও সার তৈরির কাজে।

ওয়াসা সূত্র আরো জানায়, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও নগরীর সরু ও অপ্রশস্ত রাস্তার কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ স্যুয়ারেজ লাইনের বাইরে থাকবে। ফলে এসব মানুষকে বিকল্পভাবে ম্যানুয়াল সিস্টেমে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পয়োনিষ্কাশনের প্রকল্প নিয়ে আমরা আশাবাদী। আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব ও ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আমাদের পরবর্তী কাজ শুরু হবে। ’ তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় খুলনা মহানগরী হবে দেশের সবচেয়ে আধুনিক শহর।

ওয়াসার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে ওয়াসার অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মুখ্য পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওয়াসার প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। বলতে গেলে খুলনায় পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এখনকার মানববর্জ্য সব গিয়ে নদী এবং আশপাশের পানি ও পরিবেশদূষণ করছে। তাই ওয়াসার উচিত এ পরিকল্পনার সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা, যাতে সাধারণ মানুষ বেশি উপকৃত হয়। ’ আবির-উল-জব্বার বলেন, স্যুয়ারেজ লাইনের বাইরে থাকা ৩০ শতাংশ মানুষও একটি বড় সমস্যা।


মন্তব্য