kalerkantho


খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় বুধবার

সিলেট অফিস   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার রায় বুধবার

সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায় আগামী ৮ মার্চ বুধবার ঘোষণা করা হবে; সেদিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খাদিজাকে হত্যাচেষ্টার পাঁচ মাস পর আলোচিত এ মামলায় রায় হতে যাচ্ছে।

গতকাল রবিবার মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে দেন।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ৮ মার্চ সকাল ১১টায় এ মামলার রায় দেবেন আদালত। তিনি বলেন, ‘আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনেছেন। আমরা আসামির অপরাধ প্রমাণে সক্ষম হয়েছি। তাই আশা করছি, রায়ে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। ’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার দিন বদরুল নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তাই সে সময় তিনি কী করেছেন, তা বোঝেননি। আমরা আদালতের কাছে এ বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আশা করছি, এ মামলার রায়ে বদরুল বেকসুর খালাস পাবেন।

যুক্তিতর্ক চলাকালে মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচিত এ মামলার কার্যক্রম শুরু থেকেই সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চলছিল। ওই আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়। পরে গত ১ মার্চ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত থেকে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানাস্তর করা হয়। ওই আদালতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে সীমাবদ্ধতা থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে মামলাটি। পরে ওই দিনই ৫ মার্চ যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল।

গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজকেন্দ্রে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম তাঁকে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে প্রায় দুই মাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সাভারের সিআরপিতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় তিন মাস চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের বাড়িতে ফিরে আসেন খাদিজা।  

খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে তখনই পুলিশে দেয় জনতা। ঘটনার পরদিন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর ৮ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে ৫ ডিসেম্বর, ১১ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৩ জন। পরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে খাদিজার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। গতকাল যুক্তিতর্কের শুনানিও শেষ হলো।


মন্তব্য