kalerkantho


রাজশাহী আ. লীগে চাঙ্গা হচ্ছে বিভেদ

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহী আ. লীগে চাঙ্গা হচ্ছে বিভেদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভেদ চাঙ্গা হয়ে উঠছে রাজশাহী আওয়ামী লীগে। ছোটখাটো ইস্যুতেও অনৈক্য মাথাচাড়া দিচ্ছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। কোথাও কোথাও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। দলের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনাও ঘটছে কখনো কখনো। এরই মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনী প্রচারেও নেমে পড়েছেন। রাজশাহী-১, রাজশাহী-৩, রাজশাহী-৪ ও রাজশাহী-৫ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ প্রকাশ্যে চলে আসছে। এ ছাড়া সদর আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির বদলে আওয়ামী লীগ থেকেই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে মহাজোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বদলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে কাজ শুরু করেছেন সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মতিউর রহমান। এরই মধ্যে তিনি প্রচারেও নেমে পড়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তবে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এ বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রেও নানাভাবে বার্তা পাঠিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গত ৪ মার্চ রাজশাহী সফরে এলে তাঁর কাছেও একই দাবি জানান স্থানীয় নেতারা। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। সম্প্রতি ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বিরোধ। দুই নেতার কর্মী-সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত। এলাকায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মিছিল-মিটিং করে থাকে।

সম্প্রতি পবার কাপাশিয়া এলাকায় এমপির অনুসারী ও আসাদের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং মঞ্চ ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিভাগীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছেও এমপি আয়েনের বিরুদ্ধে নালিশ করেন আসাদ ও তাঁর অনুসারীরা। অন্যদিকে পাল্টা আসাদের বিরুদ্ধে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন এমপির লোকজন। পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের পর আসাদকেই সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনেও এমপি এনামুল হক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি এমপি এনামুলকে তাহেরপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। আবুল কালাম আজাদ হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সান্টুর পক্ষের নেতা। এ নিয়ে ওই দিন দুই পক্ষের সংঘর্ষও ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারার সঙ্গে মতবিরোধ চলে আসছে সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকের। সম্প্রতি দুর্গাপুরের দাওকান্দিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগে প্রার্থীর অভাব থাকে না। তাই নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে এ নিয়ে বিভক্তি দেখা দেয়। সাধারণত দলের মনোনয়ন পেতেই এ ধরনের বিভক্তি হয়ে থাকে। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দেয়, তাঁর হয়েই কাজ করে সব নেতাকর্মী। তখন আর বিভেদ থাকে না। এখানেও থাকবে না। ’

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সদর আসনে মহাজোট থেকে যাঁকে প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হবে আওয়ামী লীগ তাঁর হয়েই কাজ করবে। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু বলার নেই। তবে জেলার কোথাও কোথাও সমস্যা আছে, সেগুলো নিরসনের জন্য জেলার নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য