kalerkantho


সিলেটে নিহত ২

ডাকাতও মারল পুলিশও মারল

সিলেট অফিস   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোস্তফানগর গ্রামে গতকাল শনিবার ডাকাতদের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পরে এক ডাকাতকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আরেক গ্রামবাসী নিহত হন।

ওই সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের মোস্তফানগর গ্রামের জিলু মিয়া (৫৫) ও দক্ষিণ রাজনগর গ্রামের মফিজ মিয়া (৫০)। জিলু মিয়া ভোররাতে ডাকাতদের হামলায় ও মফিজ মিয়া সকাল ৯টার দিকে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল ভোররাতে একদল ডাকাত মোস্তফানগর গ্রামের জিলু মিয়ার বাড়িতে হানা দেয়। ওই সময় এক ডাকাতের বল্লমের আঘাতে জিলু মিয়া মারা যান। তাঁর স্বজনদের চিৎকারে গ্রামবাসী ডাকাতদলকে ধাওয়া করে। অন্যরা পালিয়ে গেলেও সোনাই মিয়া নামের এক ডাকাতকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে গতকাল সকাল ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা সোনাইকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে মোস্তফানগরের পাশের দক্ষিণ রাজনগর এলাকায় কয়েক হাজার গ্রামবাসী তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তখন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া ও কয়েকজন ইউপি সদস্য উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ পুলিশের ২০-২৫ সদস্য দক্ষিণ রাজনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন। লোকজন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে মারা যান মফিজ মিয়া। সংঘর্ষে পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়।

এলাকাবাসী জানায়, সোনাই মিয়া সিলেটের পূর্বাঞ্চলের চিহ্নিত ডাকাত সর্দার। তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের পাশের উপজেলা গোয়াইনঘাটের লাকি গ্রামে।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, সোনাইয়ের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য থানায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা আছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়াও জানান, পুলিশের গুলিতে মফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল লাইছ জানান, পুলিশ সোনাই মিয়াকে নিয়ে আসার পথে রাস্তায় তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় একদল লোক। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়লে মফিজ মিয়া মারা যান। এর আগে ডাকাতদের হাতে গৃহকর্তা জিলু মিয়া মারা যান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন জানান, সোনাইকে থানায় নিয়ে আসার পথে চতুর্দিক থেকে হাজার হাজার লোক পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় পুলিশের ব্যবহূত দুটি সিএনজি অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। ওসি আরো জানান, সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে গুলি করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে যোগাযোগ করা হলে ওসির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা জানান, পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে ৬৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও এক রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে।

কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মো. আবুল লাইছ পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে মফিজ মিয়া নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


মন্তব্য