kalerkantho


বিচারকের সই জাল করে জমি হাতানোর চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



একজন বিচারকের সই জাল করে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোটি টাকার জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী হলেন দুর্গাপুর উপজেলার পাঁচুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার। তিনি প্রধান বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ মতে, রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২-এর এক অফিস সহকারীর সহায়তায় ওই জাল কাগজপত্র তৈরি করা হয়।

আব্দুল জব্বার অভিযোগে উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রায় সাড়ে ১৪ বিঘা জমি আদায় করতে প্রতিপক্ষ আতাউর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তিনি এবং অন্য ওয়ারিশরা আদালতে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় রাজশাহীর যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২-এর বিচারক ২০১৫ সালে বাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেন। সে অনুযায়ী আদালত থেকে বাদীপক্ষকে ওই বছরের ডিসেম্বরে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে আসা হয়। এরপর বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করে। একপর্যায়ে আপিল আবেদনকারীপক্ষ রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত থেকে নিজেদের অনুকূলে কিছু কাগজপত্র বানিয়ে উচ্চ আদালতে দাখিল করে। তবে আব্দুল জব্বার দাবি করেন, পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, আতাউর রহমানসহ অন্যরা আদালতের একজন অফিস সহকারীকে ‘ম্যানেজ করে’ জাল কাগজপত্র তৈরি করে নেন। এরপর সেগুলো উচ্চ আদালতে দাখিল করেন।

কাগজপত্র জাল করার সঙ্গে রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী সাইদুর রহমান জড়িত বলেও আব্দুল জব্বারের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে গতকাল শনিবার এ বিষয়ে জানার জন্য রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২-এর অফিস সহকারী সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

আব্দুল জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেওয়ার পরে বিবাদীপক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি দখলের জন্য জাল কাগজপত্র আদালত থেকে তৈরি করেছে। এর বিরুদ্ধে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন

দপ্তরে অভিযোগ করেছি। এরই মধ্যে জাল কাগজপত্র নিয়ে পুনরায় ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছে বিবাদীপক্ষ। ’

তবে আতাউর রহমান দাবি করেন, তাঁরা যেসব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করেছেন সেগুলোর কোনোটিই জাল নয়। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এগুলো আদালতেই প্রমাণ হবে। জমি দখলচেষ্টার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।


মন্তব্য