kalerkantho


রাজবাড়ীর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

টেকনোলজিস্ট হাতুড়ে, চলছে পরীক্ষা!

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সামনে মেডিসিন মার্কেটের দ্বিতীয় তলার নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইচ্ছামতো করা হচ্ছে। সেন্টারের একজন সনদবিহীন টেকনোলজিস্ট ওই সব পরীক্ষা করে নিজেই রিপোর্টে স্বাক্ষর করে রোগীদের দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন টেকনোলজিস্ট জানান, রাজবাড়ী জেলা সদরে অন্তত ৪০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। এর মধ্যে বড় কিছু ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সনদধারী টেকনোলজিস্ট আছেন। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে হাতুড়ে টেকনোলজিস্ট দিয়ে। এতে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষার কোনো মূল্যতালিকা নেই। ফলে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো খেয়ালখুশিমতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টাইফয়েড, জন্ডিস, রক্তের অনুচক্রিকা ও প্রস্রাব পরীক্ষা করান জেলা সদরের ভবদিয়া গ্রামের ইউসুফ ফকিরের ছেলে ও মাইক্রোবাস চালক রাব্বি ফকির। এসব পরীক্ষার বাইরে চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়াই রাব্বির সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত সিবিসি পরীক্ষা করতে অন্তত এক ঘণ্টা সময় লাগে।

তবে নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত কথিত টেকনোলজিস্ট ফিরোজ আহম্মেদ মাত্র ১৫ মিনিটে রাব্বির সিবিসিসহ সব পরীক্ষা করে দেন। এত অল্প সময়ে এতগুলো পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি দেখে উপস্থিত অনেকেই (যাঁরা বিষয়টি জানেন-বোঝেন) বিস্ময় প্রকাশ করেন। সূত্র মতে, সিবিসিতে পিসি-ডাব্লিউবিসি, পিসি-আরবিসি, পিসি-প্লাটেড কাউন্ট, পিসি, ডিসি, ইএসআর ও এইচডি—এই সাতটি পরীক্ষা করতে হয়।

রাব্বি ফকির বলেন, তিনি এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি রাজবাড়ী হাসপাতালে আসেন। পরে টিকিট কেটে হাসপাতালের চিকিৎসক আসিফ আকবরের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় তিনি হাসপাতালের পরীক্ষাগারে যেতে না পেরে নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন রহিম বকস্ জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য