kalerkantho


কুমিল্লার মুরাদনগর

বেইলি সেতুগুলো এখন মরণফাঁদ!

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বেইলি সেতুগুলো

এখন মরণফাঁদ!

কুমিল্লার মুরাদনগরে বেইলি সেতুগুলো এ রকমই বেহাল। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও ঘটতে পারে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মুরাদনগর উপজেলার ২৯টি বেইলি সেতু মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জরাজীর্ণ এসব সেতুর লোহার পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে যাত্রী ও পণ্যবাহী বাস-ট্রাক আটকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

জানতে চাইলে সওজের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্তি পাল বলেন, কুমিল্লা সড়ক সার্কেলের আওতায় থাকা মুরাদনগরের ২৯টি বেইলি ব্রিজের মধ্যে বেশ কয়েকটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর মধ্যে মুরাদনগর-ঢাকা সড়কের বেশির ভাগ সেতু ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বেইলি সেতুগুলো স্থায়ী বা পাকা (আরসিসি গার্ডার ব্রিজ) সেতু করার জন্য অনুমোদন চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে ছয়টি বেইলি সেতু রয়েছে। প্রতিটি সেতুর পাটাতন (স্লিপার) ভেঙে গেছে। সম্প্রতি পাটাতন ভেঙে বিটুমিন বোঝাই একটি লরি আটকে যায়। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। একইভাবে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ছালিয়াকান্দি বাজারসংলগ্ন এলাকার বেইলি সেতুটি চালবোঝাই ট্রাকসহ ভেঙে পড়ে।

এতে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তিন-চার দিন বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে সেতুটি মেরামত করা হলেও ঝুঁকি কমেনি।

সওজ সূত্র বলছে, একইভাবে মুরাদনগর সদরে গোমতী নদীর ওপর বেইলি সেতুটি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পিলারের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে সেতুটি। এ সেতুতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ৯ বছর ধরে এটি একই অবস্থায় আছে। ছয় বছর আগে সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করে সওজ। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউ। এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর রোডে করিমপুরের সেতুটির অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। চুরি হয়ে গেছে সেতুটির লোহার কাঠামোর বিভিন্ন সরঞ্জাম। নাজুক সেতুটির ওপর দিয়ে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

এ ছাড়া নবীনগর রোডে ছয়টি, রামচন্দ্রপুরে দুটি, বাঙ্গরা-সংচাইল রোডে ছয়টি, মেটাঙ্গর-শ্রীকাইল রোডে চারটি, সংচাইল-কোরবানপুর রোডে তিনটি, ডুমুরিয়া ও পাঁচকিত্তা রোডে দুটি এবং চাপিতলা রোডে একটি বেইলি সেতুরও মোটামুটি একই অবস্থা। চালকদের অভিযোগ, সওজ কর্তৃপক্ষ এসব সেতুর দুই প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়েই বছরের পর বছর দায় এড়িয়ে চলেছে।

মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ-ঢাকার পথের ইলিয়টগঞ্জ পরিবহনের চালক মো. কালাম হোসেন ও নবীনগর-মুরাদনগর জনতা পরিবহনের চালক দুলাল মিয়া জানান, যুগ যুগ ধরে তাঁদের জরাজীর্ণ বেইলি সেতুগুলোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কান্তি পাল বলেন, এসব সেতু পাঁচ টনের ওপরে পণ্যবাহী কোনো যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। কিন্তু ব্যস্ততম এসব সড়কে এর চেয়ে বেশি বোঝাইয়ের গাড়ি অহরহ চলছে।


মন্তব্য