kalerkantho


লাইন আছে রেল নেই

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০






লাইন আছে

রেল নেই

১৫০ কিলোমিটার রেললাইন আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলেও চালু হচ্ছে না ঠাকুরগাঁও-ঢাকা আন্ত নগর ট্রেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছয় বছর পর ঠাকুরগাঁও-ঢাকা ডুয়ালগেজ রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হচ্ছে না আন্তনগর ট্রেন চলাচল। এ নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

এ জন্য রাজনৈতিক জটিলতাকে দায়ী করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়ালগেজে রূপান্তরিত করতে ২০১০ সালের অক্টোবরে তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন কাজ শুরু করে। দুইবার নির্মাণকাজের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সালের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। আর এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮২ কোটি টাকা। প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ রেলপথের কাজ শেষ হলেও ঠাকুরগাঁও-ঢাকা রুটে আন্তনগর ট্রেন এখনো চালু না হওয়ায় হতাশায় ভুগছে জেলার লাখো মানুষ।

ঠাকুরগাঁও হাজীপাড়ার বাসিন্দা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘প্রায়ই বাসে ঢাকা-ঠাকুরগাঁও যাতায়াত করি। বাসে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ভাড়াও বেশি, প্রতিবার এক হাজার ২০০ টাকা। অথচ ট্রেন চালু থাকলে খরচ হবে পাঁচ শ টাকারও কম।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পড়ুুুয়া পর্ণারায় বলেন, ‘ট্রেন চালু হলে এ জেলার বাইরে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনেক সুবিধা হবে। রাস্তায় যানজটের ভোগান্তিসহ বেকার ছাত্রছাত্রীদের অর্থের অপচয় অনেকটা রোধ হবে। ’

গৃহবধূ সরলা রায় বলেন, ‘বাসে ঢাকা যাতায়াত করলে বিশেষ করে নারীদের টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। অথচ আন্তনগর ট্রেন চালু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। ’

ব্যবসায়ী মোদাচ্ছের আলী জানান, ব্যবসায়িক কাজে তাঁকে মাসে তিন থেকে চারবার ঢাকা যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে যখন তিনি বাসে ওঠেন তখন সড়ক দুর্ঘটনার ভয়ে খুব দুশ্চিন্তায় থাকেন। ঢাকা যাওয়ার অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে জীবনবাজি রেখে বাসে ভ্রমণ করতে হয়।

জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলাবাসী ট্রেন চালু করার ব্যাপারে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু কর্তৃৎপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ’

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছে—ঠাকুরগাঁও-ঢাকা ট্রেন চালু হবে। কিন্তু কবে চালু হবে, এ বিষয়ে প্রশাসন এখনো সুস্পষ্ট করে কিছু বলছে না। তাই এ নিয়ে সন্দেহ রয়ে যায়, আদৌ ট্রেন চালু করা হবে কি না। ’

ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘ট্রেন চালু হলে জেলার ব্যবসায়ীরা খুব স্বল্প খরচে ও ঝুঁকিহীনভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় যেতে পারবেন। এতে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য আসবে। সরকারকে খুব দ্রুত ট্রেন চালু করার আহ্বান জানাই। ’

ট্রেন চালু ও কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তমা কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপক শামসুল করিম কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার রায়হানুল হামিদ বলেন, ‘ডাবলগেজ রেললাইন স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে মাসখানেক আগে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রেল বিভাগের কাছে কাজ বুঝিয়ে না দেওয়ায় আন্তনগর ট্রেন চালু হচ্ছে না। ’

স্টেশন মাস্টার মনসুর আলী বলেন, ‘আন্তনগর ট্রেন চালু হওয়া-না হওয়ার বিষয়টি সরকারি দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ’

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। চিঠি দেওয়া হয়েছে রেল বিভাগকেও। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আন্তনগর ট্রেন চালু করবে রেল বিভাগ। ’

ট্রেন দ্রুত চালুর ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি। তাই এই বিলম্ব। তাদের এ ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর ট্রেন চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। ’


মন্তব্য