kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ

সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগে সীমিত রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক ও নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যা, বেআইনি আটক ও গুমের মতো ঘটনাকে বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ২০১৬ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে পররাষ্ট্র দপ্তর এ মন্তব্য করেছে।

গত বছর প্রকাশিত ২০১৫ সালের প্রতিবেদনেও পররাষ্ট্র দপ্তর এ মন্তব্য করেছিল।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মদদে জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে উল্লেখ করে এবার পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ওই অভিযানের ফলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, চাঁদা আদায়ের জন্য নির্বিচার আটক, গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকারের অন্যান্য লঙ্ঘন বেড়েছে বলে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করাকে যৌক্তিক প্রমাণেও সরকার সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে ব্যবহার করেছে। ’

বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান নিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রই নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইকুয়েডরসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নানা সিদ্ধান্ত এবং এতে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে। রীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবছর মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এতে অনীহা জানান। এ ছাড়া কয়েকটি দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সেগুলোর জোরালো সমালোচনা করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদ ও সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে যে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতায় এসেছেন সে নির্বাচনকে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বিতর্কিত বলে অভিহিত করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

এ দেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়েশ ও আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের (একিউআইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে এমন দাবি করা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, শিক্ষাবিদ, বিদেশি, মানবাধিকারকর্মী, সমকামী সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর বড় ধরনের হামলা করেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সমস্যা হিসেবে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, কাজের নাজুক পরিবেশ, নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন, কিছু বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ও অনানুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ আরোপের কথাও উল্লেখ করেছে।


মন্তব্য