kalerkantho


দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সেবা

উদ্বোধন ১৫ মার্চের মধ্যে, কম মূল্যে মিলবে দক্ষিণাঞ্চলে

বিশেষ প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উদ্বোধন ১৫ মার্চের মধ্যে, কম

মূল্যে মিলবে দক্ষিণাঞ্চলে

দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫-এর সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ মার্চের মধ্যে উদ্বোধন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, দ্বিতীয় এই সাবমেরিন কেবলের সেবা চালু হলে নিকটবর্তী এলাকা হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর—এসব এলাকার মানুষ কম মূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ পাবে। ট্রান্সমিশন চার্জ কম হওয়ায় ওই সব এলাকার মানুষ এ সুবিধা পাবে। যেমনটা পাচ্ছে প্রথম সাবমেরিন কেবলের ক্ষেত্রে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকার মানুষ।

মনোয়ার হোসেন আরো জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় এই সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়াম তাদের গ্লোবাল অপারেশন চালুর কথা বলে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫-এর সংক্ষিপ্ত রূপই হচ্ছে সি-মি-উই-৫। এই কনসোর্টিয়ামে সংযুক্ত রয়েছে ১৭টি দেশের ১৫টি শীর্ষস্থানীয় টেলিকম অপারেটর।

তবে ওই দিন পটুয়াখালীর ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ঢাকায় অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বাংলাদেশে এ সেবা চালু হয়নি।

এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি এ সেবা বাংলাদেশে চালু না হওয়ায় সমস্যা হয়নি। কারণ আমাদের বিদ্যমান সি-মি-উই-৪ সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হচ্ছে।

প্রথম ওই সাবমেরিন কেবলের সেবা চালু হয়েছিল ২০০৫ সালে। প্রথম এই সাবমেরিন কেবলের খরচ চার বছরের মধ্যে উঠে এসেছে। দ্বিতীয়টির খরচ উঠে আসার বিষয়টি নির্ভর করছে আমরা কতটুকু ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি করতে পারব তার ওপর। ’

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো জানান, সি-মি-উই-৫-এ যুক্ত হওয়ার জন্য দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সংযুক্ত হতে ব্যয় হয়েছে ৬০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে সরকার ১৬৬ কোটি ও আইডিবির ঋণ ৩৫২ কোটি টাকা এবং বিএসসিসিএল ১৪২ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। দ্বিতীয় এই সাবমেরিন কেবল থেকে দেশে প্রথম পর্যায়ে যোগ হবে আরো ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ। পরে পাওয়া যাবে প্রয় এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ। নতুন এই সাবমেরিন কেবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর হবে। অন্যদিকে প্রথম সাবমেরিন কেবলের মেয়াদ আর মাত্র ১০ বছর রয়েছে। সে জন্য দ্বিতীয়টির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।

প্রসঙ্গত, দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের চাহিদা গত দেড় বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৫ সালের আগস্টে ভারতে ১০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি বা লিজের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে বিএসসিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওই সময় দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের চাহিদা ছিল ১২৬ জিবিপিএস। এর মধ্যে বিএসসিসিএলের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছিল ৩৩ জিবিপিএস। আর বাকি ৯২ জিবিপিএস ভারত থেকে আসছিল আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল) অপারেটরের মাধ্যমে। অর্থাৎ দেশে নিজেদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ব্যবহার হচ্ছে ভরতীয় ব্যান্ডউইডথ। এ বাস্তবতায় অব্যবহূত পড়ে থাকছিল বিএসসিসিএলের প্রায় ১৬৭ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ।

কিন্তু বিএসসিসিএলের বর্তমান তথ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৩৭০ জিবিপিএএস। এর মধ্যে ২০৮ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকি চাহিদা পূরণ হয় আইটিসির মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করে। নতুন এই সাবমেরিন কেবল থেকে পাওয়া ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির সম্ভাবনা কতটুকু—এ প্রশ্নের জবাবে মনোয়ার হোসেন বলেন, সৌদি আরব ৭০০ জিবিপিএস নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সিঙ্গাপুরের ব্লুবেরি নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিতে চেয়েছে ১০০ জিবিপিএ। এ ছাড়া ভুটান ও নেপালে এই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার মাইটভাঙা আমখোলাপাড়ায় সরেজমিনে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে তারানা হালিম সাংবাদিকদের জানান, ল্যান্ডিং স্টেশনে যুক্ত হওয়ার পরে ঢাকা পর্যন্ত ব্যান্ডউইডথ ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপন করা হয়েছে এবং সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরই মার্চ থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত রাজ্যগুলোতে এবং আরো কয়েকটি দেশে আমাদের চাহিদার অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি করতে পারব। ’


মন্তব্য