kalerkantho


বিপিসির সচিবকে ছয় দিনে দুই বার বদলি, তবু যাননি নতুন কর্মস্থলে

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছয় দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বদলি করা হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব মো. নুরুল আমিনকে। তার পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাধর এ কর্মকর্তা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে থেকে যাওয়ার জন্য তদবির করছেন জোরালোভাবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা বদলি আদেশে (স্মারক নং-০৫.০০. ০০০০.১৩২.১৯.০০১.১৭ (অংশ-২)-১২৬) মো. নুরুল আমিনসহ উপসচিব পদের মোট পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এই আদেশে নুরুল আমিনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিপিসির সচিব পদে বদলি করা হয়।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হলেও এর ছয় দিন পর অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি একই মন্ত্রণালয়ের একই শাখা থেকে আরেকটি বদলি আদেশ জারি করা হয়। এতে নুরুল আমিনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার পদ থেকে মহিলা কারারক্ষীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে বদলি করা হয় (স্মারক নং-০৫.০০.০০০০.১৩২. ১৯.০০১.১৭-১৪৩)। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা দুটি বদলি আদেশই তিনি অনুসরণ না করে উল্টো বিপিসির সচিব পদে থেকে যাওয়ার জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে বিপিসির সচিব নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে আপনার অসুবিধা কোথায়? আপনি কেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন? আমার বিষয়ে জানতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ’

জানা গেছে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুল আমিন প্রেষণে বিপিসির সচিব পদে যোগদান করেন ২০১৫ সালের জুনে।

এ কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অজুহাতে ঢাকায় অবস্থান করে দাপ্তরিক কাজ চালিয়েছেন ফ্যাক্স ও ই-মেইলের মাধ্যমে। বিপিসির পঞ্চম সর্বোচ্চ পদে থেকেও তিনি প্রধান কার্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। কারণ তাঁর পরিবার থাকেন ঢাকায়। তাই তিনি নানা অজুহাতে বছরের প্রায় বেশির ভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন।

বিপিসির কর্মকর্তাদের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি (স্মারক নং-২৮.০৩.০০০০.০১৩.৩১.০১৫.১৩-৫১) পাঠানো হয় সংস্থার চেয়ারম্যান বরাবরে। চিঠিতে বলা হয়, ‘বিপিসির ঊর্ধ্বতন কমকর্তারা বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে না থেকে প্রায়ই ঢাকা অবস্থান করছেন। ওই কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে বিপিসির দাপ্তরিক কাজকর্ম সঠিক সময়ে সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির ফলে ওই অফিসে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত/অফিশিয়াল কাজে ঢাকায় আসার প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ এবং ঢাকায় বিপিসির কোনো মিটিং করার প্রয়োজন হলে তা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’ তার পরও কোনো টনক নড়েনি বিপিসি কর্তৃপক্ষের। এ বিষয়ে গত ৫ নভেম্বর কালের কণ্ঠে ‘বিপিসির সচিব ৫১৯ দিনে অনুপস্থিত ৩৩৩ দিন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠ’র কাছে অভিযোগ করে বলেন, বিপিসির সচিব নুরুল আমিনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম। তিনি প্রায়ই বিমানে ঢাকায় যাতায়াত করে বিপুল অঙ্কের টাকা ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ খরচ বিপিসির হিসাব শাখা থেকেই বহন করা হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে নুরুল আমিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাই দুটি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে বিপিসি থেকে একটি গাড়ি চট্টগ্রামে এবং বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন বিপণন সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কম্পানির (এসএওসিএল) একটি গাড়ি ঢাকায় ব্যবহার করে থাকেন। তিনি একাধারে এসএওসিএল এবং পদ্মা অয়েল কম্পানির বোর্ড পরিচালকও।

এ ব্যাপারে এসএওসিএলের কর্মকর্তারা জানান, নুরুল আমিন বিপিসির সচিবের পাশাপাশি এসএওসিএল পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) পরিচালক। তাই কম্পানির পক্ষ থেকে তাঁকে একটি গাড়ি ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য