kalerkantho


বগুড়ায় মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বগুড়ায় মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষানবিশদের কর্মবিরতি

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনকে মারধরের ঘটনায় চার সহকর্মীকে শাস্তি দেওয়ার পর থেকে কাজ করছেন না শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। কোনো ঘোষণা ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগ দেননি।

রোগীর স্বজনকে মারধরের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ (ইন্টার্নশিপ) ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে তাঁদের চারটি ভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যার পর মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ আহসান শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি সভা করেছেন। তিনি শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেও সভায় তাঁরা কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানিয়েছেন কলেজের পরিচালক। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই সভা শেষ হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেননি।

এর আগে গতকাল সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরা কাজ করলেও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেননি। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা না থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. খালিদ আব্বাস খান বলেন, ‘শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই হাসপাতালে আসছে না।

আমরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ’

মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ আহসান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য দুটি তদারক দল গঠন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আলাউদ্দিন সরকার নামের এক রোগীর ছেলে রউফ সরকার গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় দায়ী চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে শাস্তি দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পর থেকেই হাসপাতালে কোনো শিক্ষানবিশ চিকিৎসক নেই বলে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত নার্সরা।

মেডিসিন ওয়ার্ডের ৪৮২ নম্বর কক্ষে দায়িত্বরত নার্স মারুফা জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে আর হাসপাতালে আসেননি। মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ নার্স হোসনে আরাও একই কথা বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, শাস্তি পাওয়া চারজনসহ অন্য শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার তাঁদের আবাসিক হলে গোপন বৈঠক করেন। ওই সভায় তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাঁরা তা ঘোষণা না করেই একযোগে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন।


মন্তব্য