kalerkantho


সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব শেষ

শেষ দিনে মানুষের ঢল, মুগ্ধ আয়োজক শ্রোতা অতিথিরা

সিলেট অফিস   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘যেতে নাহি দিব!’ হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়!’ কবিগুরুর কবিতার লাইনগুলো যেন গতকাল নীরবে উচ্চারিত হলো সিলেটবাসীর হৃদয়ে। ১০ দিনজুড়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হলো বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব।

শেষ দিনে বিদায় জানাতেই যেন গতকাল বিকেল থেকে উৎসবস্থল ও এর বাইরে ছিল হাজার হাজার মানুষের ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই উৎসবস্থলে ঢুকতে পারলেও স্থান সংকুলানের অভাবে অনেককেই ফিরতে হয়েছে ব্যর্থ মনোরথে।

গতকাল বিকেল হওয়ার আগেই আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সের সামনে দর্শকদের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। একসময় তা উৎসবস্থল ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত পৌঁছে। ভেতরে জায়গা না পাওয়ার উত্কণ্ঠা ছিল সবার চোখে-মুখে।

বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব যে সিলেটবাসীর মনে দাগ কেটেছে, তার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের কথায়। গতকাল সকালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘আগামীর সিলেট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংস্কৃতি উৎসব এটি। তিনি প্রতিবছর এ উৎসব আয়োজন করার জন্য বেঙ্গল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

সিলেটের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির জুয়েল বলেন, বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব আমাদের জন্য যেমন উপভোগ্য ছিল, তেমনি এখান থেকে শেখারও অনেক কিছু ছিল। এ রকম আয়োজন নিয়মিত হলে তা আমাদের মননকে আরো বিকশিত করবে।

গতকাল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার নাজমুল আরা খানম ও গোল্ডেন হারবেস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব সাদমানী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছাড়া উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে যুবসমাজকে ফেরানো যাবে না। এ থেকে উত্তরণের জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে সিলেটের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলো হাত ধরাধরি করে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার জীবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এত মানুষের সমাগম দেখিনি। ’ উৎসবস্থলে ৪৫ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে যারা এসেছে তারা মনের ক্ষুধা নিবারণে এসেছে। প্রতিবছর এ আয়োজনের জন্য তিনি বেঙ্গল কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, এ উৎসব আয়োজনে সিলেটবাসীর যে সমর্থন পেয়েছি, তা ভোলার নয়। তিনি বলেন, সিলেটের মানুষ যে কতটা ভদ্র তার প্রমাণ সাহিত্য সম্মেলনে হাজারো উপস্থিতি।

গতকাল শেষ দিনে বিকেল ৪টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র ঘাসফুল। এরপর সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় একই মঞ্চে প্রদর্শিত হয় মঞ্চনাটক মহাজনের নাও। এ ছাড়া গীতিবিতান বাংলাদেশের পরিবেশনায় ছোটদের গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে হাসন রাজা মঞ্চের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪টায়। এরপর নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন অনিন্দিতা চৌধুরী। বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিল্পীরা দলীয় যন্ত্রসংগীত সেতার পরিবেশন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চে আসেন খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তারপর লোকসংগীত শিল্পী শফি মণ্ডলের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ইতি ঘটে ১০ দিনের উৎসবের।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আগামীর সিলেট’ শীর্ষক সেমিনার। এতে অংশ নেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল কাজী খালেদ আশরাফ, বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, জেরিনা হোসেন ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের পরিচালক (রিসার্চ) সাইফুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।


মন্তব্য