kalerkantho


গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

জীবনাচরণ বদলে ৬৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শুধু জীবনাচরণ পরিবর্তন করে ৬৮ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ধূমপানমুক্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ স্থূল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে যত মৃত্যু হয় পুষ্টিহীনতায় তার চেয়ে বেশি মৃত্যু হয় অতিভোজন ও অতিওজনের জন্য।

আসন্ন বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্থূলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায় : সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবনধারা’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এ দেশের শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে অকালে প্রাণ হারায় বেশির ভাগ রোগী। পক্ষান্তরে একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। ’

বৈঠকে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দেশে ব্যাপকসংখ্যক কিডনি রোগীর তুলনায় ডায়ালিসিস সেন্টার খুবই কম—মাত্র ৯৬টি এবং ১৮ হাজার রোগী এসব সেন্টারে সপ্তাহে দুবার করে ডায়ালিসিস পায়।

বেসরকারি সেন্টারগুলোতে সাড়ে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ডায়ালিসিস মূল্য রাখা হয়। তাই ডায়ালিসিস খরচ কমাতে সরকারি-বেসরকারিভাবে বাস্তবিক উদ্যোগ নিতে হবে। ’

ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান ও ক্যাম্পসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ এ গোলটেবিল বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব কিডনি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী মানুষকে সচেতন করা ও কিডনি বিকল প্রতিরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা ও সুস্থ জীবন ধারায় সবাইকে অভ্যস্ত করা। ’

বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষা মতে প্রথম ১০ মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে স্থূলতা একটি। একসময় বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল সংক্রামক ব্যাধি। এখন বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে মৃত্যুর জন্য দায়ী অসংক্রামক ব্যাধি। আর স্থূলতা জম্ম দেয় জীবনসংহারী অসংখ্য ব্যাধির। স্থূলতার সঙ্গে কিডনি রোগের সম্পর্ক সরাসরি। বাড়তি ওজন সরাসরি কিডনির ছাকনি নষ্ট করে দেয়। আবার পরোক্ষভাবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মাধ্যমে কিডনির ক্ষতি হয়।


মন্তব্য