kalerkantho


রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা পেলেন তিন কৃতী নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা পেলেন তিন কৃতী নারী

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা পাওয়া তিন নারীর সঙ্গে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের জন্য তিন কৃতী নারী পেয়েছেন রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা ২০১৬। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

সাংবাদিকতা, সমাজকল্যাণ এবং ব্যবসায় উদ্যোগে অসামান্য অর্জনের জন্য স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এক দশকের বেশি সময় ধরে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।

এবার রাঁধুনী কীর্তিমতী সাংবাদিক সম্মাননা পেয়েছেন কুড়িগ্রামের লাইলী বেগম। তিনি ১৪ বছর আগে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়েও তিনি এ পথে এগিয়ে চলেছেন। হামলা, মামলা আর পারিবারিক চাপ উপেক্ষা করে আজ তিনি সফল। কাজ করছেন দুটি দৈনিক ও একটি টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনের প্রয়োজনে সাহসী হও’—লাইলী বেগমের জীবনচিত্রের সঙ্গে এর পুরোপুরি মিল রয়েছে।

রাঁধুনী কীর্তিমতী হিতৈষী সম্মাননা পেয়েছেন চট্টগ্রামের রমা চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক রমা চৌধুরী দেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতার বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে সন্তান হারিয়ে এর পর থেকে খালি পায়ে হাঁটছেন। রমা চৌধুরী কারো সাহায্য নেন না, নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করেন। আর বই বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থে একটি অনাথ আশ্রম করার স্বপ্ন দেখেন রমা চৌধুরী। এ পর্যন্ত কবিতা, গল্প, উপন্যাস মিলিয়ে তাঁর ১৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

রাঁধুনী কীর্তিমতী উদ্যোক্তার সম্মাননা পেয়েছেন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নুরুন্নাহার বেগম। ২০০২ সালে ঋণ করে একটি গরু কিনে তিনি যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একজন সফল খামারি। কৃষি কাজেও তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন। নুরুন্নাহার তাঁর খামার ও কৃষি কাজে এক হাজার ২০০ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি জাতীয় স্বর্ণপদক জয়ী একজন নারী কৃষক। নুরুন্নাহার একটি প্রতিবন্ধী হাসপাতাল চালাচ্ছেন, স্বপ্ন দেখেন একটি বৃদ্ধাশ্রম করার।

রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকার সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবি, জাগো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান করভি রাখশান্দ এবং স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। কীর্তিমতী সম্মানপ্রাপ্তদের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশ গুপ্ত, প্রিপ ট্রাস্ট ঢাকার নির্বাহী পরিচালক আরমা দত্ত, দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এবং মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক।

গোলাম সারওয়ার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা বাল্যবিয়ে বন্ধের কথা বলছি। অথচ আইনে ‘তবু’, ‘কিন্তু’র মতো ফাঁক রাখা হয়েছে। আর এই ফাঁকগলে ১০ বছরের মেয়েরও বিয়ে হয়ে যেতে পারে। অবিলম্বে এই আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি। কর্মক্ষেত্রে নারীদের আরো সুরক্ষা প্রয়োজন। তারা যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার না হয়। সম্পত্তিতেও ছেলেদের মতো মেয়েদের সম-অধিকার আমরা চাই। ”

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, “আমি ১৮ বছরের চেষ্টায় ‘নূরজাহান উপন্যাস’ লিখেছি। সেখানে নারীদের দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। সেই দুর্দশা থেকে এখনো নারীরা বের হয়ে আসতে পারেনি। এখনো অনেক ক্ষেত্রে নারীদের মানুষ মনে করা হয় না। আমরা তাদের পুরুষের সমকক্ষ মনে করছি না। বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের জন্যই আজ গার্মেন্ট শিল্প এত বড় আকার ধারণ করেছে। ”

অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘এবার আমরা ১১তম রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননার আয়োজন করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মহিলা কর্মীর সংখ্যা ২৫ শতাংশের ওপরে। স্কয়ারের পেট্রল পাম্পেও নারী কর্মী কাজ করছে, আবার টপ ম্যানেজমেন্টেও তারা কাজ করছে। তবে যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়ন ত্বরিত গতিতে এগিয়ে চলছে। ’


মন্তব্য