kalerkantho


রাজস্ব হারাবে সরকার

হাটের ইজারা নিয়ে পাঁয়তারা প্রভাবশালীদের

রংপুর অফিস   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রংপুর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাটের নাম শঠিবাড়ী হাট। মিঠাপুকুর উপজেলার এই হাট এ বছরের জন্য ইজারা হয়েছিল চার কোটি ৫১ লাখ টাকা। ভ্যাট, ট্যাক্সসহ এই হাট থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করেছিল সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। এখন আগামী বছরের জন্য শঠিবাড়ী হাটটি মাত্র তিন কোটি টাকায় ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল সমঝোতা করে সরকারের প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া উপজেলার শুকুরেরহাট, জায়গীর, বলদীপুকুর, বৈরাগীগঞ্জ, মোলংহাটসহ ৩০টি হাট-বাজার ইজারায় কোনো দরপত্র পড়েনি। ফলে সরকার হারাচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী বছরের মিঠাপুকুরের ছোট-বড় হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ছিল দরপত্র দাখিলের দিন। উপজেলার সবচেয়ে বড় শঠিবাড়ী হাট ইজারার জন্য মাত্র দুজন ব্যক্তি দরপত্র ফেলেন। এর মধ্যে আবু নুর প্রধান নামের এক ব্যক্তি তিন কোটি পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা এবং শাহ্ নেওয়াজ শামীম তিন কোটি তিন লাখ ৯৮ হাজার টাকার ইজারা দরপত্র দাখিল করেন।

সমঝোতার মাধ্যমে আর কোনো ব্যক্তি ইজারা দরপত্র ফেলেননি। অথচ গত বছর ওই শঠিবাড়ী হাট ইজারা হয়েছিল সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা (ভ্যাট, ট্যাক্সসহ)। ফলে সরকার শুধু শঠিবাড়ী হাট থেকেই রাজস্ব হারাচ্ছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার। সরকারের রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন ইজারাদার। তাঁরা প্রায় এক কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা করছেন স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের। তবে শঠিবাড়ী হাট নিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ফন্দিতে ফুঁসে উঠেছে মিঠাপুকুরের জনগণ।

এলাকাবাসী জানায়, হাট-বাজার ইজারার মাধ্যমে শঠিবাড়ী হাট থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করে সরকার। অথচ ওই হাটটি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁসি দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শঠিবাড়ীর স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম, ইয়াছিন আলী ও মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এই হাট সরকারের রাজস্ব আদায়ের বড় উৎস। সমঝোতার মাধ্যমে হাটটি ইজারা দেওয়া হলে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। ’

কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা যায়, আসন্ন ১৪২৪ সনে শঠিবাড়ী হাটে দুজন দরদাতার মধ্যে তিন কোটি পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকায় দরপত্র ফেলেছেন আবু নুর প্রধান নামের এক ব্যক্তি। অথচ আগের বছর ১৪২২ সনে ওই হাটের জন্য তিনি দরপত্র ফেলেছিলেন চার কোটি ১৩ লাখ টাকা। তবে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আবু নুর প্রধান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘শঠিবাড়ী হাট ইজারার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্দেশনা চেয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে। তাঁর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। ’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘শঠিবাড়ী হাট ইজারায় গত বছরের চেয়ে কম মূল্যের কথা শুনেছি। এখনো কাগজপত্র হাতে পাইনি। পেলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য