kalerkantho


সামাজিক অবজ্ঞা, দারিদ্র্যে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুরা

জামালপুর প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সামাজিক অবজ্ঞা, দারিদ্র্যে শিক্ষাবঞ্চিত বেদে শিশুরা

সামাজিক অবজ্ঞা, দারিদ্র্য ও পারিবারিক পেশাগত কারণে বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা আজও শিক্ষাগ্রহণের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যাযাবরজীবন কাটায়।

কোমলমতি শিশুদের হাতে যখন বই-খাতা থাকার কথা, তখন তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সাপ। মা-বাবার সঙ্গে সাপখেলা দেখিয়ে পরিবারের আহার জোটাতে সাহায্য করে তারা।

বেদেরা দিনের বেলা গ্রামগঞ্জে ঘুরে সাপখেলা, বানরখেলা ও বিভিন্ন কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কোনো রকমে জীবন ধারণ করে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জামালপুর শহরের ফেরিঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পারে একদল বেদে নৌকার ছইয়ের মতো ডেরা তুলে আশ্রয় নিয়েছে। তারা ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসেছে দুই সপ্তাহ আগে। ওই বহরে ৪২ জন নারী-পুরুষ রয়েছে। তাদের সঙ্গে অবস্থান করছে ২২ জন শিশু। ওরা সবাই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

বহরের বেদে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা কেউ সাপ নিয়ে খেলা করে।

অনেকেই আবার বেদেবহরের চারপাশে কানামাছি, বউচি, বন্দিভাষা, কুতকুত ও এক্কাদোক্কা খেলে কাটায় সারা দিন। মা-বাবার সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়। অনেকেই আবার হাট-বাজারে সাপ ও বানরখেলায় মা-বাবাকে সহযোগিতা করে। শিক্ষা বলতে জানে সাপ ও বানরখেলা শেখা। বেদেবহরে আজও পৌঁছেনি শিক্ষার আলো। পরিচয় হয়নি অক্ষরজ্ঞানের সঙ্গে। যাযাবরজীবনে একেক সময় একেক স্থানে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ নেই শিশুদের।

বহরের সর্দার মোহাম্মদ মন্টু বলেন, ‘আমরা পেটের তাগিদে জায়গায় জায়গায় ঘুরে বেড়াই। ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করি। গ্রামগঞ্জের মানুষকে সাপখেলা ও বানরখেলা দেখাই। শিঙা লাগিয়ে তাবিজ-কবচ বিক্রি করি। এসব করে যা পাই তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালাই। বর্তমান যুগের মানুষ আগের মতো আমাদের খেলা ও শিঙা লাগানো পছন্দ করে না। তাবিজ-কবচও নিতে চায় না। বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। বাড়িতে রেখে শিশুদের লেখাপড়া শেখানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। ’

মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, বেদে সম্প্রদায়ের যাযাবর মানুষগুলোও এ দেশের নাগরিক। শিক্ষাগ্রহণের মৌলিক অধিকার তাদেরও রয়েছে। বেদে সম্প্রদায়ের যাযাবর শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন এনজিওকর্মী এবং সোশ্যাল ওয়ার্কারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


মন্তব্য