kalerkantho


বড় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে দক্ষ জনবল গড়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিদ্যুৎ খাতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বড় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন নীতিনির্ধারকরা। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ফল আনবে বলেও উল্লেখ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা অর্জন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আসবে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এখনই নেওয়া দরকার।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দ্রুত সাফল্য পেতে হলে পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগামী চার-পাঁচ বছরে দুই হাজার প্রকৌশলী লাগবে। বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নে দক্ষ ও কার্যকর মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তার প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। ’ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ও বাংলাদশে পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের আধুনিকায়নে আমরা অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাই। ’

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে মোনাস ও আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কিভাবে আরো ফলপ্রসূ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত করা যায় এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল ওই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যানিং ও ডিজাইন বিভাগ) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহসান। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। কারণ এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রকল্পে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা। এ ধরনের আলাপ-আলোচনা চালানোর মতো দক্ষ লোকবল গড়ে তোলা দরকার। তা ছাড়া কিভাবে যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয় তাও জানা দরকার। এ ছাড়া দেশের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানির লক্ষ্যে একটি সংস্থা বা কম্পানি গঠন করা গেলে কয়লা আমদানি ব্যয় কমে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কয়লা কিনলে কম দামে কয়লা কেনা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যয়ও অনেক কমে আসবে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় কমবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট বলেন, বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাড়বে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অন্যান্য নিয়মিত কোর্স ছাড়াও জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের জন্য প্রতিবছর ১০টি করে বৃত্তি থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিদ্যুৎসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানিসচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসেন, মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল আলম, আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ফিরোজ আলম।

 


মন্তব্য