kalerkantho


বাংলাদেশি ওষুধ কিনে ব্রিটিশ নারীর রোগমুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নিজ দেশে উচ্চমূল্যের কারণে ওষুধ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওষুধ সেবন করে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন এক ব্রিটিশ নারী। জো শারাম নামের ওই ব্রিটিশ নারী জানান, তিনি অনলাইনে ‘ডারভোনি’ নামের বাংলাদেশি ওষুধটি ক্রয় করেছিলেন।

জো শারাম সম্প্রতি ‘বিবিসি ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার প্রোগ্রাম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। গত বুধবার বিবিসির ‘ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার ওয়েবসাইটে’ সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশে অনলাইনে ওষুধ কেনা অনেকটা জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটেনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পাওয়া, চিকিৎসক দেখাতে না পারা এবং ওষুধের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকে অনলাইনে ওষুধ কিনছেন। ব্রিটিশ নারী জো শারামের হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস শনাক্ত হলেও উচ্চমূল্যের কারণে ওষুধটি ব্রিটেনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাচ্ছিলেন না। তাই তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ওষুধটি কেনেন।

শারাম জানান, ২০ বছর বয়সে তিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ভাইরাসটি শনাক্ত না হওয়ায় অন্য অনেকের মতো এই ভাইরাস বহন করেই বছরের পর বছর চলছিলেন তিনি। কারণ ওষুধটির দাম বেশি হওয়ায় ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ওষুধটি কেবল তাদেরই দিত, যারা এই ভাইরাসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত।

 

শারাম বলেন, ‘আমি অফিসের চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়তাম। স্মৃতিজনিত অনেক সমস্যাও হচ্ছিল আমার। এ ছাড়া হজমে সমস্যা হচ্ছিল, ঘৃণা মনোভাব জাগছিল। এর পরই ধরা পড়ে, আমার দেহে হেপাটাইসিস-সি ভাইরাস রয়েছে। ’

সরকারি তথ্য মতে, ব্রিটেনে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি রোগীর জন্য এই ওষুধ দিতে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের দশ হাজার পাউন্ড খরচ হয়। এ কারণে সংস্থাটি কেবল গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরই ওষুধ দেয়। জো শারাম যেহেতু খুব বেশি অসুস্থ ছিলেন না তাই তিনিও ওই ওষুধ পাচ্ছিলেন না। সে কারণে তিনি নির্ভর করলেন অনলাইনের ওপর এবং অনলাইনেই কম দামের ওষুধ কিনলেন বাংলাদেশ থেকে। এতে তাঁর খরচ পড়ে প্রায় এক হাজার পাউন্ড।

জো শারাম জানান, ওষধুটি সেবনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। তাতে দেখেন তাঁর রক্তে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসের কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি।

 


মন্তব্য