kalerkantho


বিজিএমইএ ভবন নিয়ে আবেদনের শুনানি হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বিজিএমইএ ভবন

নিয়ে আবেদনের শুনানি হয়নি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসংলগ্ন বেগুনবাড়ী খালের ওপর গড়ে তোলা বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে তিন বছর সময় চেয়ে করা রিভিউ আবেদনের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি হয়নি আপিল বিভাগে। আগামী রবিবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ গতকাল ‘নট টু ডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।

বেগুনবাড়ী-হাতিরঝিল প্রকল্পের অধীন খালের ওপর নির্মিত বিজিএমইএ ভবন ৯০ দিনের মধ্যে ভাঙতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। ভবনটি ৯০ দিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশনাসংবলিত হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আপিল করার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন গত বছর ২ জুন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত বছর ৮ নভেম্বর। এ রায়েও ৯০ দিনের মধ্যে ভবন ভাঙতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের কপি পাওয়ার পর গত বছর ৮ ডিসেম্বর বিজিএমইএ রিভিউ আবেদন দাখিল করে।

বিজিএমইএ সভাপতির করা ওই আবেদনে আপিল বিভাগের রায় স্থগিত করে বহুতল ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য তিন বছর সময় চাওয়া হয়।

এ আবেদনটি আপিল বিভাগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপস্থাপিত হলে আদালত ২ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন। এ অবস্থায় গতকাল শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ের আবেদন করেন।

বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা নিয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনির উদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন। পরদিন বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেন। ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন আদালত। ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সেটি ভেঙে ফেলতে রাজউক তথা সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আপিল করার অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।


মন্তব্য