kalerkantho


নীলফামারীতে বিন্নাদীঘির প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




নীলফামারীতে বিন্নাদীঘির

প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু

নীলফামারী সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অষ্টম শতকের রাজা বিরাটের বিন্নাদীঘির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বর্তমানে ওই দীঘি নীলসাগর নামে পরিচিত।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সরকার এগুলো রক্ষায় কাজ করছে। দেশের যেসব স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যাবে, সেখানে একটি করে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর গড়ে তোলা হবে। সে অনুযায়ী নীলসাগরেও একটি জাদুঘর হবে। নীলফামারীর আশপাশের জেলায়ও পর্যায়ক্রমে খননকাজ চালানো হবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের উদ্যোগে ওই খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন, জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুজিবুর রহমান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক প্রমুখ।

কথিত আছে অষ্টম শতকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরাজিত পাণ্ডবদের পানি পানের জন্য রাজা বিরাট নীলফামারী জেলা সদরের গোরগ্রাম ইউনিয়নে ওই দীঘিটি খনন করেন। এর আয়তন ৫৩ দশমিক ৯০ একর।

গভীরতা ২৮ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত।

১৯৮৯ সালে ওই দীঘির নামকরণ করা হয় নীলসাগর। অনেকের মতে এর পানি দেখতে নীল বলেই এ নামকরণ। আবার অনেকে মনে করেন নীলফামারী নামের সঙ্গে মিলিয়ে নীলসাগর নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত দীঘিটি সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে বসে প্রতিবছর হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের পুণ্যস্নান মেলা। পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলায় সেখানে প্রতিবছর শীত মৌসুমে আসে সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি।

এর আগে দুপুরে ৮৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯২১ টাকা ব্যয়ে ডোমার উপজেলায় বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করেন মন্ত্রী। শেষে দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সভায় তিনি বক্তব্য দেন।


মন্তব্য