kalerkantho


ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আছিম পাটুলী ইউনিয়ন

এলজিএসপির টাকা নয়ছয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এলজিএসপির টাকা নয়ছয়

এলজিএসপির (লোকাল গভর্নমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট) টাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজ হওয়ার কথা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। সেই কাজ শুরু হয়েছে বর্তমান অর্থবছরের শেষ দিকে, অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারিতে।

এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নে। কাজটি শুরুও হয় একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রশাসনে অভিযোগ করার পর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে।

অভিযোগ উঠেছে, আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান এলজিএসপির প্রায় ১০ লাখ টাকা কৌশলে আত্মসাৎ করতেই ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ময়মনসিংহের এলজিএসপি কর্মকর্তারা পাটুলী ইউনিয়নে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ না করার অভিযোগ সত্য বলে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়ার প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকা আছিম পাটুলী ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতির শেষ নেই। আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ বাদ প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি এলাকার শামছুল আলম বাবলু নামের এক ব্যক্তি ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান তিন বছর বা আরো আগে থেকে এলজিএসপির টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছেন।

আছিম-পোড়াবাড়ী হয়ে তিতারচালা, কালাইরপাড় রাস্তা থেকে সাইফুল চেয়ারম্যানের বাড়ি সংযোগ (লিংক) রাস্তায় এলজিএসপির দুটি প্রকল্পের দুটি কিস্তির প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ অসম্পন্ন রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারী শামছুল আলম বাবলু বলেন, এলজিএসপির কাজের তালিকা প্রকাশ্যে টানানো থাকার কথা থাকলেও আছিম পাটুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টানাননি। তথ্য চাইলে চেয়ারম্যান দেন না। সরকারি পুরো কাজই এখানে চলে গোপনে। আর এভাবেই লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। বাবলু নিজে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে এবং এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশাসনে অভিযোগ করেন। প্রশাসন অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে। বাবলু বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে কাজ করছেন। কিন্তু সেখানেও দুর্নীতি হচ্ছে। সড়কের কাজ আরসিসি ঢালাই হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে কোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ময়মনসিংহের এলজিএসপির ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলেটেটর মাজহারুল কবীর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে তদন্তে যান। তদন্তে তিনি অভিযোগের সত্যতা পান। তবে ওই সময়ে চেয়ারম্যান অভিযোগ হওয়া সড়কের কাজ করছিলেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান। মাজহারুল কবীর বলেন, দুটি প্রকল্পের একটির জন্য চার লাখ ৮৭ হাজার ৫৯৭ ও অন্যটির জন্য চার লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৮ টাকা বরাদ্দ। এ কাজগুলো ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন কাজগুলো হয়নি। এখন হচ্ছে। তিনি মৌখিকভাবে আছিম পাটুলী ইউনিয়নে কাজের অনিয়মের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কোনো লিখিত প্রতিবেদন এখনো দেননি তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এলজিএসপিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা সরাসরি তদারক করতেই দুজন কর্মকর্তা এখানে (এলজিএসপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এ প্রকল্পে দুর্নীতি করা কঠিন। কিন্তু যদি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে এই কর্মকর্তাদের আঁতাত থাকে তাহলে প্রকল্পের দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।

অভিযুক্ত আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান বলেন, আগেই এ প্রকল্পের কাজ হয়েছিল। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকায় নতুন করে তিনি এ কাজ করছেন। এলজিএসপির কর্মকর্তারা যেভাবে বলছেন তিনি সেভাবেই কাজটি করে দিচ্ছেন।


মন্তব্য