kalerkantho


কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র

জটিলতা এড়াতে করণীয় নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, পরিবেশ রক্ষা, উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে পুনর্বাসন করা গেলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে জটিলতা ও বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। অস্ট্রেলিয়ার কয়লাখনি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন ও দেশটির মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসংক্রান্ত কোর্স শেষ করে তৈরি প্রতিবেদনে এসব পরামর্শ দিয়েছেন সরকারি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্ল্যানিং ও ডিজাইন বিভাগ) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহসান।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘ন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ শীর্ষক সেমিনারে এ প্রতিবেদনের আলোকে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লা আমদানির জন্য একটি সংস্থা বা কম্পানি গঠন করা দরকার। দেশের সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র এখান থেকে কম দামে কয়লা কিনতে পারবে। এতে প্রশাসনিক ব্যয় অনেক কমে আসবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ মানবসম্পদ দরকার। কারণ এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের বেশ কিছু ধাপ আছে। যেমন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার জন্য অভিজ্ঞ লোকজন দরকার। কিভাবে যৌথ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হয় তাও জানা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর আয়ুষ্কাল (লাইফ টাইম) ২৫ ধরে পরিকল্পনা ও নির্মাণের কাজ চলছে।

কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যুেকন্দ্রগুলো ৪০ বছরের বেশি সময় উৎপাদনে থাকে। বাংলাদেশেও সেভাবে পরিকল্পনা করা উচিত। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালনা করা কঠিন। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুেকন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি গাইডলাইন থাকা দরকার। অবশ্যই উৎপাদিত ছাই ও অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথ হতে হবে। কেন্দ্রে ব্যবহূত পানি এমন অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে যাতে নদী ও কেন্দ্রে ব্যবহূত পানির তাপমাত্রার পার্থক্য না থাকে। এ জন্য ‘ক্লোজ সার্কিট কুলিং টাওয়ার’ নির্মাণ করতে হবে।

কয়লা আমদানির জন্য দুটি দেশ অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানিতে প্রতি টনে খরচ পড়বে প্রায় ৮২ ডলার। আর ইন্দোনেশিয়া থেকে আনলে পড়বে ৬০ ডলার। তবে ইন্দোনেশিয়ার কয়লায় পানির পরিমাণ ৬০ শতাংশ হওয়ায় দাম বেশি পড়ে যাবে। এ ছাড়া পরিবেশ ধ্বংসকারী সালফারের মাত্রাও ইন্দোনেশিয়ার কয়লায় বেশি। আমদানির পাশাপাশি দেশের খনি থেকে কয়লা তোলার পরামর্শ তাঁর।

প্রতিবেদন বিষয়ে সাইফুদ্দিন আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কয়লা আমদানির জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গড়া, পরিবেশের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়াসহ বেশ কিছু কাজ করা গেলে বাংলাদেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে সাফল্য দেখাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


মন্তব্য