kalerkantho


ঋণ মওকুফ পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঋণ মওকুফ পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তলব

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোন কোন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ঋণ মওকুফ করা হয়েছে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ৩০ দিনের মধ্যে তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ মওকুফের সুবিধাপ্রাপ্তরা দেশের আর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন কি না, নিয়ে থাকলে তার পরিমাণ ও তাদের নাম উল্লেখ করে একই সময়ের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত মঙ্গলবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শামস-উদ-দোহা ও খায়রুন নেসা।

গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান এ আদেশের তথ্য সাংবাদিকদের জানান। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

রুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ মওকুফের ক্ষমতাসংক্রান্ত ব্যাংক কম্পানি আইনের ২৮(১) ও ৪৯(চ) ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব, আইনসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, মহাহিসাব নিরীক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতের এ আদেশের কপি বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ মওকুফ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদেশ দেন আদালত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নেওয়া খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কোনোদিন আদায় হবে না। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার কোটি টাকা অবলোপন ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণ গ্রহীতা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই টাকা ফেরত দেয় না।  

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কম্পানি আইনের ২৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, কোনো ব্যাংক-কম্পানি উহার নিকট হইতে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত [ঋণ বা উহার অংশ বা উহার উপর অর্জিত সুদ] মওকুফ করিবে না। ’


মন্তব্য