kalerkantho


প্রধান বিচারপতি বললেন

আগে রাষ্ট্রকে আইন মানতে হবে

নিজস্ব প্র্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্র্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘জনগণকে আইন মানাতে হলে আগে রাষ্ট্রকে আইন মানতে হবে। রাষ্ট্র যদি নৈতিকতা বজায় না রাখে, তাহলে সেই দেশে কোনো দিন শান্তি আসবে না।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্র্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রকে আইন ও শাসনতন্ত্র মেনে চলতে হবে। এরপর বলতে হবে, আপনারা (জনগণ) আইন মানেন। আমি (রাষ্ট্র) আইন মানব না, আইনে চলব না, আর আমি যদি বলি, আপনারা আইন মানেন তাহলে সেই রাষ্ট্র কোনোমতে চলবে না। ’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আইনজীবীদের হাতিয়ার হিসেবে প্রথম এগিয়ে আসতে হবে। বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে না। একদিন সব বিলীন হয়ে যাবে। ’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলএলএম লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (ঢুলা) ‘বাসন্তী উৎসব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম ফয়েজ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলী আহমেদ খোকনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি এম আর হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ঢুলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক এস এম মুনীর প্রমুখ।

ইংল্যান্ডের উদাহরণ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে লিখিত সংবিধান ছাড়াই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সরকার পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শাসনতন্ত্রকে লোকদেখানো হিসেবে ব্যবহার করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হলো। এরপর আইনজীবীসমাজ জেগে উঠল। যাঁরা বিখ্যাত আইন পেশার লোক তাঁরা পৃথিবীর চিত্র পরিবর্তন করলেন। সেটা আমেরিকা থেকে শুরু হয়েছে। পাঁচ-ছয়টা রায় হয়েছে। নিগ্রোদের শিক্ষার অধিকার, বিভিন্ন অধিকার বিষয়ে। এটা (রায় দেওয়ার পক্ষে) শাসনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে আইনজীবীরা তাঁদের প্রজ্ঞা দেখিয়ে, ব্যাখ্যা করে উপস্থাপন করেছেন। অ্যাক্টিভিস্ট জাজেস জন মার্শাল থেকে শুরু করে বিজ্ঞ আইনজীবীরা আজকে একটা কল্যাণ রাষ্ট্র করেছেন। কিন্তু সেই কল্যাণকর রাষ্ট্রে আজ অকল্যাণকর কাজ হচ্ছে। ’

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘বিচারকরা অনেক সময় আইনটাকে পাশ কাটিয়ে নৈতিকতার দিকে ধাবিত হই। আমরা কিন্তু নৈতিকতার দিকে কোনোমতেই কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারি না। যত খারাপ ঘটনাই ঘটুক আমরা বিচারকরা আইনের কথাই বলব। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা আছে যেগুলো নীতি-নৈতিকতার বাইরে। আইন কিন্তু এটাকে বেআইনি বলছে না। আমরা কিন্তু এটাই রায় দেব। এই নৈতিকতা আমাদের এখানে আইন না। এটা কিন্তু পাশের দেশে একটা বেআইনি হতে পারে। সে দেশের বিচারক এবং আমার দেশের বিচারকের ব্যাখ্যার মধ্যে ব্যবধান থাকবে। আমরা এটুকু ভুলে যাই। ’


মন্তব্য