kalerkantho


স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আরো সময় চান মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে আরো সময় চান মালিকরা

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য আরো সময় চান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকরা। প্রয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা সংশোধন করে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দেশের প্রচলিত আইনে ঋণ গ্রহণের সুবিধাও চেয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

একই সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সুযোগ চায় তারা।

গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মাত্র ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়। এর আগে ২০১১ সাল থেকে পাঁচবার সময় বৃদ্ধির ফলে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পেয়েছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকরা। এখন পর্যন্ত ৩৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। বারবার সময় নিয়েও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে করণীয় এখনো ঠিক করেনি মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবারও সময় চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের মতে, স্থায়ী ক্যাম্পাস কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নিষ্ঠার বিশেষত শিক্ষার মানের একমাত্র নিয়ামক নয়।

সর্বোচ্চ আন্তরিতা সত্ত্বেও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি বলে মন্ত্রীকে জানিয়েছেন তাঁরা।

আবেদনে বলা হয়, স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে জমি কিনেছে। এর মধ্যে অনেকগুলো রাজউক থেকে নকশাও অনুমোদন নিয়েছে। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিধিমালার বিভিন্ন শর্তের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে পারছে না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির বক্তব্য, একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে যে ব্যয় তা জোগাতে ব্যাংকঋণের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে পারে না। কোনো ব্যক্তির একক চেষ্টায় অখণ্ড এক একর নিষ্কণ্টক জমি সীমাহীন উচ্চমূল্যে কিনে আবার একক চেষ্টায় ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে যেটুকু বিলম্ব ঘটে থাকে সেই সময় চায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। এ কারণে ঋণ গ্রহণের সুবিধার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারারও সংশোধন চায় তারা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগও চেয়েছেন সমিতির নেতারা।


মন্তব্য