kalerkantho


সিলেটে বেঙ্গল উৎসব

প্রসিদ্ধ সব খাবারের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে সবাই

সিলেট অফিস   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খুলনা অঞ্চলে ‘চুই ঝাল’ খুব জনপ্রিয়। চুই মূলত এক ধরনের সপুষ্পক লতা। এই লতা কেটে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাংস রান্না করা হয়। খুলনার ঐতিহ্যবাহী এ খাবার ‘সাতকরা’র সিলেটে অনেকের কাছেই অপরিচিত। চুই ঝালই শুধু নয়, খুলনার জনপ্রিয় ‘দুমড়ো হাঁস’-এর (নারিকেল কুচি দিয়ে রান্না) স্বাদের সঙ্গে সিলেটের অনেকের এখানেই প্রথম পরিচয়। সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে খুলনার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো পাওয়া যাচ্ছে খুলনা হেঁসেল নামের একটি স্টলে।

কেবল খুলনা নয়, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রসিদ্ধ খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং চেখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এ উৎসব।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ১০ দিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। তারা ঘুরে ঘুরে দেখছে, স্বাদ নিচ্ছে। পাশাপাশি খাবারগুলো সম্পর্কে জানারও চেষ্টা করছে।

খুলনা হেঁসেলের দায়িত্বে থাকা গোলাম মর্তুজা বলেন, খুলনা অঞ্চলের খাবারের সঙ্গে এখানকার অনেকেরই প্রথমবার পরিচয় ঘটছে, যে কারণে খাবারগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে তারা।

অনেকে খুব পছন্দ করছে আবার ভালো লাগেনি বলেও অনেকে জানিয়েছে।

রংপুরের স্টলের নাম আনন্দ ঘর। স্টলটির দায়িত্বে থাকা মো. রিফাত আহমদ বললেন, রংপুরের ‘সিদল ভুনা’ একটি জনপ্রিয় খাবার। নাম সিদল ভুনা হলেও এটি তৈরিতে কয়েক ধরনের শুঁটকির সঙ্গে নানা ধরনের মসলা মিশিয়ে বেটে তৈরি করা হয় এই পদ। এ ছাড়া বাদাম ভর্তা ও ডিম টমেটোর স্বাদও একটু আলাদা ধরনের।

চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবানি খাবারের সঙ্গে সিলেটের মানুষের কমবেশি পরিচয় আছে। উৎসবে ‘চট্টগ্রাম অঁলাঘর’-এ পাওয়া যাচ্ছে ভুনা খিচুড়ি, লইট্যা, খাইসাসহ নানা পদের চাটগাঁইয়া খাবার। স্টলের দায়িত্বে থাকা রেজওয়ান আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, শিমের বিচি ও চিংড়ি দিয়ে রান্না করা হয় খাইসা। এটি চট্টগ্রামের জনপ্রিয় খাবার। এ ছাড়া লইট্যা মাছ রসুন দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্না করা হয়। এগুলোর স্বাদ একটু ভিন্ন রকম।

উৎসবে ১৪টি স্টল রয়েছে। এসব স্টলে মসলাদার খাবারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পিঠা, আইসক্রিম থেকে শুরু করে পান-সুপারিও পাওয়া যাচ্ছে।

এর বাইরেও কুশিয়ারা কলোনেডের পাশে সুইটস বেঙ্গলে গেলে একই ছাদের নিচে দেখা মিলবে বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলের বিখ্যাত মিষ্টির। নেত্রকোনার গয়ানাথের বালিশ মিষ্টি থেকে শুরু করে বগুড়ার দই পর্যন্ত সবই আছে থরে থরে সাজানো।

স্টলের দায়িত্বে থাকা এস এম মামুন রেজা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিখ্যাত মিষ্টিগুলো সরাসরি সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের চমচম, শেরপুরের রসমঞ্জুরী, মণ্ডা, নাটোরের কাঁচাগোল্লা, রাজশাহীর কাঠারীভোগসহ ২৩টি জেলার মিষ্টান্ন মিলবে আপাতত।

উৎসব প্রাঙ্গণে কথা হয় বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা সুমন মিত্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখানে একই জায়গায় সব বিখ্যাত খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাচ্ছে সহজে। বাজারে বিখ্যাত মিষ্টিগুলো পাওয়া যায়, কিন্তু তার বেশির ভাগই নকল। আসলটা পেতে আপনাকে জেলায় জেলায় ঘুরতে হবে। সেটা যে কারো জন্য বেশ কঠিন কাজ। বেঙ্গলের এই ভাবনা এককথায় প্রশংসনীয়। ’

বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শকদের উপস্থিতি। আগের দিন গত মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উৎসব মাতিয়েছেন ওপার বাংলার শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। তিনি যখন মঞ্চে ওঠেন তখন উৎসবস্থলে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। প্রায় ২০ হাজার দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে। এপার বাংলার সিলেটে তাঁর জনপ্রিয়তা কতটুকু তা নিজ চোখেই দেখে গেলেন এই বরেণ্য শিল্পী। তিনি নিজেই বলেন, ‘এত বেশি দর্শকদের সামনে এর আগে ভারত ও বাংলাদেশের কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে গান করার সৌভাগ্য আমার হয়নি। ’ আর গতকাল বুধবার একই মঞ্চে রাগাশ্রয়ী গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন প্রিয়াংকা গোপ। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় মণিপুরি নৃত্য দিয়ে শুরু হয় মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান। এরপর একে একে সংগীত পরিবেশন করেন বুলবুল ইসলাম ও জয়তী চক্রবর্তী।

এ ছাড়া সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে গতকাল তিনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। বিকেল ৪টায় প্রদর্শিত হয় ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ও রাত ৮টায় যথাক্রমে প্রদর্শিত হয় ‘রানওয়ে’ ও ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।

আজকের অনুষ্ঠানমালা : সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে বিকেল ৪টায় দেখানো হবে চলচ্চিত্র ‘রীনাব্রাউন’। একই মঞ্চে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় পরিবেশিত হবে মঞ্চনাটক ‘কঞ্জুস’। এ ছাড়া হাছন রাজা মঞ্চে বিকেল ৪টা থেকে অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। প্রথমেই রয়েছে ছোটদের দলীয় পরিবেশনা ও ছোটদের গীতিনাট্য। এরপর রাকিবা ইসলাম ঐশী নজরুলসংগীত এবং শফিউল আলম রাজা ভাওয়াইয়া পরিবেশন করবেন। এই মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন ফেরদৌস আরা ও হৈমন্তী শুক্লা।


মন্তব্য