kalerkantho


পরিবহন ধর্মঘট

অসহনীয় দুর্ভোগে নারী ও শিশুরা

ওমর ফারুক   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অসহনীয় দুর্ভোগে

নারী ও শিশুরা

শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে লঞ্চে চড়ে গতকাল বুধবার সকালে ঢাকায় আসেন নাসিমা বেগম। সঙ্গে আসেন তাঁর বাবা ও দুই শিশুসন্তান। বাসে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সদরঘাটে নেমে জানতে পারেন, বাস ধর্মঘট চলছে। এতে বিচলিত হয়ে পড়েন নাসিমা। অবশেষে সেখান থেকে তাঁরা ট্রেনের আশায় গিয়ে হাজির হন কমলাপুর স্টেশনে। সেখানে আরেক দৃশ্য; টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন। নাসিমার বাবা টিকিটের জন্য লাইনে গিয়ে দাঁড়ান। আর হতাশ নাসিমা দুই সন্তান নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্টেশনে বসে থাকেন। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে।

শুধু নাসিমা একাই নন, গতকাল কমলাপুর স্টেশনে তাঁর মতো আরো অনেককেই শিশুদের নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্ট করতে দেখা যায়।

কয়েকজন নারী যাত্রী জানান, ট্রেনে যাওয়ার জন্য তাঁরা খুব ভোরে স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু কোনো ট্রেনের টিকিট না পেয়ে এখন হতাশ বোধ করছেন। শিশুরা দীর্ঘ সময় বসে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

কমলাপুর থেকে কোনো একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় যাত্রীদের হুড়োহুড়ি ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকিট কাউন্টারের সামনে ছিল লোকারণ্য। যাত্রীদের চাপ সামলাতে কাউন্টারের কর্মীদেরও প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। একটি টিকিট পাওয়ার আশায় অনেককেই ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। অনেকে লম্বা লাইন দেখে হতাশ হয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা যায় অনেককে।  

গতকাল সকাল ৯টায় রংপুরের উদ্দেশে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির। সেটি ছাড়ে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে। রংপুরের মাসুদ জানান, জরুরি কাজে তাঁকে রংপুরে যেতে হচ্ছে। বাসেই যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাস বন্ধ দেখে মঙ্গলবার রাতে এই ট্রেনের টিকিট কাটেন তিনি। সকাল পৌনে ৯টার দিকে স্টেশনে এসে দেখেন, স্টেশনে মানুষ আর মানুষ। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটিও নেই স্টেশনে। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে ট্রেনটি স্টেশনে আসে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা বসে থাকার পর ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায়? কার কাছে গেলে আমরা এসবের সমাধান পাব? সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে তাদের লাভ কি?’

গতকাল দুপুরে কমলাপুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি যাত্রী গাজীপুর ও এয়ারপোর্ট এলাকায় যাওয়ার। এই যাত্রীরা সাধারণত ট্রেনে চাপেন না। বাস বন্ধ থাকার কারণে বিকল্প হিসেবে তাঁরা ট্রেনে যেতে চান। অনেককেই দেখা যায়, কোন ট্রেন কমলাপুর থেকে গাজীপুর যায় সেটিই জানেন না। তাঁদের স্টেশনে দাঁড়ানো বিভিন্ন ট্রেনের দিকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এসব যাত্রী লম্বা লাইন দেখে টিকিট না কেটেই বেশির ভাগ ঢোকেন প্ল্যাটফর্মে। ঢাকা টু জয়দেবপুরের ডেমু ট্রেনের পরিচালক মোতালেব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকার কারণে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। ’

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘ট্রেন ঠিক সময়েই চলছে। শিডিউল বিপর্যয় নাই। ’ রংপুরের উদ্দেশে যাওয়া ৯টার  ট্রেন দুপুর দেড়টায় কেন ছাড়ল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রেনটি আসতে দেরি করেছে। সকাল ১১টায় এসে পৌঁছেছে বলে দেরি করে গেছে। ’


মন্তব্য